সিরাজগঞ্জ-৩ (রায়গঞ্জ-তাড়াশ) আসনের সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলায় রায়গঞ্জ পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব ও রায়গঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. গোলাম মোক্তাদির ওরফে মুত্তাকিনসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পৃথক অভিযানে তাদের আটক করা হয়।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (রায়গঞ্জ সার্কেল) সাইফুল ইসলাম খান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার গোলাম মোক্তাদির মামলার ৮ নম্বর এবং আলমগীর হোসেন ১১ নম্বর এজাহারভুক্ত আসামি। জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) ও থানা পুলিশের পৃথক অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার বিকেল পৌনে ৫টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলা সদরের ধানগড়া মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে একটি ক্যাফে ফাস্টফুডে অভিযান চালিয়ে আলমগীর হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি রায়গঞ্জ উপজেলার রনতিথা গ্রামের বাবলুর ছেলে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে সিরাজগঞ্জ জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে গুনগাতী গ্রামের মোশাররফ আকন্দের ছেলে গোলাম মোক্তাদির ওরফে মুত্তাকিনকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে শনিবার (১৫ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে রায়গঞ্জ উপজেলার ধানগড়া বাজার এলাকায় সংসদ সদস্য ভিপি আয়নুল হকের গাড়িতে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই স্থানীয় বিএনপি নেতা শামীমুল হাসান রায়গঞ্জ থানায় মামলা করেন। মামলায় ১৫ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ৩০ থেকে ৪০ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
এদিকে হামলার ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে রায়গঞ্জ উপজেলা জামায়াত। উপজেলা জামায়াতের আমির আলী মর্তুজা ও সেক্রেটারি এস এম মুনসুর আলী এক বিবৃতিতে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত হামলাকারীদের শনাক্ত, দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। একই সঙ্গে এ ঘটনায় জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করার অভিযোগকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেন তারা।
অন্যদিকে, জাতীয় নাগরিক পার্টিকে (এনসিপি) দায়ী করে দেওয়া বক্তব্যেরও প্রতিবাদ জানিয়েছে দলটির সিরাজগঞ্জ জেলা কমিটি। যুগ্ম সদস্যসচিব (দপ্তর) হযরত আলী উসমান এক বিবৃতিতে বলেন, তদন্ত ছাড়াই এনসিপির নেতাকর্মীদের দোষারোপ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দুই আসামির বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং হামলার ঘটনায় জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত আছে।



















