Tuesday , 18 August 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য খেলা
  2. অপরাধ
  3. অস্ট্রেলিয়া (ওশেনিয়া) মহাদেশ
  4. অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আফ্রিকা মহাদেশ
  8. আবহাওয়া
  9. ইউরোপ মহাদেশ
  10. উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
  11. এশিয়া মহাদেশ
  12. কৃষি
  13. ক্যাম্পাস
  14. ক্রিকেট
  15. খেলাধুলা

পরীক্ষা শেষে ছেলের হাতে ছাগল তুলে দিলেন মা, আবেগঘন মুহূর্ত ভাইরাল

নাইজেরিয়ার এক শিক্ষার্থীর বিশ্ববিদ্যালয়ের শেষ পরীক্ষা শেষে মায়ের দেওয়া একটি ছাগল উপহার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আর্থিক সীমাবদ্ধতার মধ্যেও দেওয়া এই উপহার মায়ের প্রতিশ্রুতি ও ভালোবাসার প্রতীক হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছে।

চলতি মাসের শুরুতে নাইজেরিয়ার ২৩ বছর বয়সী ফার্মাসিউটিক্যাল প্রযুক্তির ছাত্র প্রমিজ ওকোরো চূড়ান্ত পরীক্ষা শেষ করে বের হলে সহপাঠীদের শুভেচ্ছা ও উদযাপনের মধ্যেই তাঁর মা চিনেরি একটি ছাগল নিয়ে সেখানে হাজির হন। প্রথমে চিৎকার শুনে প্রমিজ ভেবেছিলেন, হয়তো কাউকে বিয়ের প্রস্তাব দেওয়া হচ্ছে। পরে মায়ের হাতে ছাগল দেখে তিনি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। সহপাঠীরাও উল্লাসে মেতে ওঠেন। ঘটনাটির ভিডিও দ্রুত অনলাইনে ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পায়।

দক্ষিণ-পূর্ব নাইজেরিয়ার ইগবো সম্প্রদায়ের সংস্কৃতিতে ছাগল উপহার দেওয়া সম্মান, শুভেচ্ছা ও বিশেষ উপলক্ষ উদযাপনের একটি প্রচলিত রীতি। তাই অনেকের কাছে বিষয়টি ব্যতিক্রমী মনে হলেও স্থানীয় সংস্কৃতিতে এর বিশেষ তাৎপর্য রয়েছে।

প্রমিজের মা চিনেরি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আর্থিক সংকটের মধ্যেও ছেলেকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতেই তিনি এই উপহার দেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় তিনি বলেছিলেন, ছেলে যদি খারাপ সঙ্গ এড়িয়ে পড়াশোনা চালিয়ে যায়, তবে তাকে পুরস্কৃত করবেন। নিজের স্বপ্ন ছিল একটি মার্সিডিজ বেঞ্জ ফোরম্যাটিক জিপ উপহার দেওয়ার। তবে সামর্থ্য না থাকায় তিনি ১ লাখ ২০ হাজার নাইরা (প্রায় ৮৮ ডলার) দিয়ে ছাগলটি কেনেন। এরপর ইমো রাজ্যের ফেডারেল পলিটেকনিক নেকেডে-তে ছেলেকে চমকে দিতে উবাহা-এজে গ্রাম থেকে এক ঘণ্টারও বেশি পথ পাড়ি দিয়ে সেটি নিয়ে আসেন।

প্রমিজ জানিয়েছেন, ছাগলটি তিনি জবাই করবেন না। এটি এখন তাঁর প্রিয় পোষা প্রাণী। ভবিষ্যতে একটি মাদি ছাগল কিনে প্রজননের পরিকল্পনাও রয়েছে তাঁর। বর্তমানে ছাগলটি তাঁর ছাত্রাবাসেই থাকে এবং অবাধে চলাফেরা করে। মজা করে প্রমিজ বলেন, ছাগলটি মানুষের মতো আচরণ করে এবং তাঁর বেঁচে যাওয়া ফ্রাইড রাইস খেতে খুব পছন্দ করে। এমনকি এটি তাঁর সঙ্গে সুপারমার্কেটেও যায়, যেখানে অনেকেই ছাগলটির সঙ্গে ছবি তুলতে ভিড় করেন।

পড়াশোনা শেষ করে নাইজেরিয়ার স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করতে চান প্রমিজ। উন্নত সুযোগের আশায় অনেক স্বাস্থ্যকর্মী দেশ ছাড়লেও তিনি নিজ দেশে থেকেই মানুষের সেবা করার লক্ষ্য স্থির করেছেন। তাঁর ভাষ্য, এই শিক্ষা অর্জন শুধু একটি সনদ নয়, বরং জীবনের বড় একটি অর্জন। মায়ের ভালোবাসার এই ব্যতিক্রমী উপহারের পর এবার তিনিও মাকে একইভাবে চমকে দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন।

সূত্র: বিবিসি

সর্বশেষ - লাইফস্টাইল