মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যে কাতারের রাজধানী দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তাদের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা শুরু হয়েছে বলে আলোচনার বিষয়ে অবগত এক কূটনীতিক বুধবার এএফপিকে জানিয়েছেন।
সংবেদনশীল এই আলোচনা সম্পর্কে পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ওই কূটনীতিক জানান, আলোচনা শুরু হয়েছে। দুবাই থেকে এএফপি এ খবর জানায়।
এর আগে তিনি বলেছিলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় বুধবার দোহায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে ‘পরোক্ষ কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা’ অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, দোহার এই আলোচনা ‘সমঝোতা স্মারকের’ ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে সুইজারল্যান্ডের লেক লুসার্ন সম্মেলনে অর্জিত অগ্রগতি এবং জুনে উভয় পক্ষ অনুমোদিত আলোচনার কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে এগোনো হচ্ছে।
কূটনীতিক জানান, যুক্তরাষ্ট্রের দূত জ্যারেড কুশনার ও স্টিভ উইটকফ এই কারিগরি আলোচনায় অংশ নিচ্ছেন না। মঙ্গলবার তারা কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশই আগে জানিয়েছিল, তারা কাতারের বৈঠকে কর্মকর্তাদের পাঠাবে।
কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় সম্পাদিত যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকে ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি, অবরোধ প্রত্যাহারের পর হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেওয়া এবং যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানোর সময়সূচি অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছিল এই যুদ্ধ।
বুধবার ইরানি কর্মকর্তাদের দোহায় যাওয়ার কথা থাকলেও, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি আলোচনা হওয়ার দাবিকে তেহরান নাকচ করে দেয়।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকায়ি নিশ্চিত করেন, ইরানি প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেবেন উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি। তবে তিনি বলেন, ‘আগামী কয়েক দিনে কোনো পর্যায়েই আমেরিকান পক্ষের সঙ্গে আলোচনার কোনো পরিকল্পনা তাদের নেই।’
এদিকে কুশনার ও উইটকফ মঙ্গলবার কাতারের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক করেন বলে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।
মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়, তারা ‘সমঝোতা স্মারকের কাঠামোর আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের চলমান আলোচনা’ নিয়ে মতবিনিময় করেন। পাশাপাশি লেবাননের সাম্প্রতিক পরিস্থিতিও তাদের আলোচনায় স্থান পায়।



















