চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) তালিকাভুক্ত ৩৩০ দুষ্কৃতকারীর মধ্যে এক নম্বরে থাকা জাহেদুল ইসলাম ওরফে ‘পিচ্চি জাহেদ’ দুর্বৃত্তদের হামলায় নিহত হয়েছেন। সাতকানিয়ায় মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরার পথে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।
রোববার (৩০ আগস্ট) দিনগত রাতে সাতকানিয়া উপজেলার পুরানগড় ইউনিয়নের দক্ষিণ এলাকার একটি সড়কে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, রাতে মোটরসাইকেল নিয়ে ওই সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় একদল দুর্বৃত্ত জাহেদের পথরোধ করে।
হামলাকারীরা তাকে ঘিরে ধরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করে। এতে গুরুতর আহত হয়ে তিনি সড়কে পড়ে যান। পরে স্থানীয় লোকজন ও পরিবারের সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।
পুলিশ জানায়, জাহেদুল ইসলামের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র, মাদক কারবার, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে জননিরাপত্তার স্বার্থে চট্টগ্রাম নগরীতে ৩৩০ জন দুষ্কৃতকারীর প্রবেশ ও অবস্থানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়। ওই তালিকায় প্রথমে ছিলেন জাহেদ।
এর আগে গত ১৯ জানুয়ারি রাতে সাতকানিয়ার পুরানগড় এলাকায় সেনাবাহিনী ও যৌথ বাহিনীর অভিযানে জাহেদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই সময় তার কাছ থেকে ১০৪টি ইয়াবা ও ১৫টি দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানানো হয়। পরে আদালত থেকে জামিনে মুক্ত হয়ে এলাকায় ফিরে আসেন তিনি।
পুলিশের একটি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামের অপরাধজগতের সঙ্গে জাহেদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ ছিল। মাদক ও অস্ত্রের কারবার, চাঁদাবাজি এবং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ ছিল বলে স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে।
তবে কী কারণে এবং কারা তাকে হত্যা করেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। প্রাথমিকভাবে মাদক ও অস্ত্রের কারবার, আধিপত্য বিস্তার, অপরাধী গ্রুপগুলোর বিরোধ কিংবা পূর্বশত্রুতার জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আরিফুল ইসলাম সিদ্দিকী বলেন, খবর পেয়ে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করেছে এবং সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।



















