নাটোরের গুরুদাসপুরে সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, ডিলাররা সংকটের কথা বললেও অতিরিক্ত দাম দিলে সহজেই সার মিলছে, এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।
কৃষকদের অভিযোগ, উপজেলার সার ডিলারদের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট রয়েছে। ডিলারদের দোকানে সার মজুত থাকলেও সরকারি দামে তা বিক্রি করা হচ্ছে না। বাজার তদারকির অভাবে অতিরিক্ত দামে সার বিক্রি অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ তাদের।
শফি নামের এক কৃষক জানান, দুই বস্তা টিএসপি সার কিনতে তিনি চাঁচকৈড় বাজারের কয়েকটি ডিলারের দোকানে গেলেও সংকটের অজুহাত দেওয়া হয়। পরে এক প্রতিবেশী কৃষকের কাছ থেকে বেশি দাম দিলে সার পাওয়া যায় জানতে পেরে তিনি এক বস্তা টিএসপি সার ১ হাজার ৮০০ টাকায় কিনেছেন। অথচ ওই সারের সরকার নির্ধারিত মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা।
কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, গুরুদাসপুর উপজেলায় বিসিআইসির ১০ জন এবং বিএডিসির ১০ জন সার ডিলার রয়েছেন। চলতি মাসে তাদের মধ্যে সমবণ্টনের ভিত্তিতে টিএসপি ১৭০ টন, ডিএপি ২৫৮ টন, এমওপি ১৯৫ টন এবং ইউরিয়া ৭২০ টন বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং ডিলাররা তা উত্তোলনও করেছেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কৃষকের দাবি, প্রায় সব ডিলারের কাছেই সার থাকলেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে তা পাওয়া যাচ্ছে না। তারা অভিযোগ করেন, কৃষি অফিসে অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে বাজারে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। তবে এ অভিযোগের স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। [তথ্য যাচাই প্রয়োজন]
সরেজমিনে বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ডিলারের দোকানে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে সার বিক্রি হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত ১ হাজার ৩৫০ টাকার ইউরিয়া বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৪৫০ টাকায়, ১ হাজার ৫০ টাকার ডিএপি ১ হাজার ৫০০ টাকায়, ১ হাজার ৫০ টাকার এমওপি ১ হাজার ৮০ টাকায় এবং ১ হাজার ৩৫০ টাকার টিএসপি বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। এ সময় বাজারে কোনো মনিটরিং টিমও চোখে পড়েনি।
উপজেলা বিসিআইসি ডিলারের প্রতিনিধি আব্দুস সোবাহান বলেন, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কৃষকদের কাছ থেকে কোনো দাম নেওয়া হয় না। তবে বাইরে থেকে সার আনতে অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় হলে সেই খরচ কৃষকদের জানিয়ে নেওয়া হয়।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ও সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সদস্য সচিব কে এম রাফিউল ইসলাম বলেন, ন্যায্যমূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করতে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। সার মজুদের তথ্য খাতায় লিপিবদ্ধ না করায় তিন ডিলারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যের বেশি দাম নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা সার ও বীজ মনিটরিং কমিটির সভাপতি ও ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, উপজেলায় সারের কোনো সংকট নেই। সার সিন্ডিকেটের বিষয়ে বিভিন্ন অভিযোগ শোনা গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো কৃষক আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেননি। তারপরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাজার তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর-বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, কৃষকরা যেন সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পান, তা নিশ্চিত করতে ডিলারদের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। গুরুদাসপুরে কোনো সার সিন্ডিকেট চলতে দেওয়া হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।



















