বিশ্বকাপে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দিয়েছেন আর্জেন্টিনার অধিনায়ক লিওনেল মেসি। সোমবার (৩১ আগস্ট) তিনি নিশ্চিত করেছেন, আর কখনো আর্জেন্টিনার জার্সিতে মাঠে নামবেন না।
ফাইনালে পরাজয়ের কয়েক সপ্তাহ পর বার্সেলোনার সাবেক এই তারকা আন্তর্জাতিক ফুটবলকে বিদায় জানানোর সিদ্ধান্তের কথা জানান। তবে এর আগে ২০১৬ সালেও একবার জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছিলেন মেসি।
২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালে চিলির কাছে আর্জেন্টিনার হারের পর প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক ফুটবল ছাড়ার কথা জানিয়েছিলেন তিনি। সেই ম্যাচে টাইব্রেকারে শট মিস করার পর টানা ফাইনাল হারের হতাশায় ভেঙে পড়ে মেসি এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। ওই সময় তার বয়স ছিল মাত্র ২৯ বছর, যা ফুটবল বিশ্বে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
মেসির সেই আকস্মিক অবসরের সিদ্ধান্তে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিলেন তার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। মুন্দো দেপোর্তিভোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রোনালদো বলেছিলেন, ‘মেসি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং মানুষের তা বোঝা উচিত।’ তিনি আরও বলেন, ‘সে হার বা হতাশা দেখতে অভ্যস্ত নয়, রানার্সআপ হওয়া তো দূরের কথা। একটি পেনাল্টি মিস করলেই কেউ খারাপ খেলোয়াড় হয়ে যায় না। মেসিকে কাঁদতে দেখাটা কষ্টদায়ক এবং আমি আশা করি সে তার জাতীয় দলে ফিরে যাবে, কারণ তার এটি প্রয়োজন।’
পরে অবশ্য অবসরের সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসেন মেসি। জাতীয় দলের নীল-সাদা জার্সিতে ফিরে এসে তিনি আর্জেন্টিনাকে ২০২১ ও ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকা এবং ২০২২ সালের ফিফা বিশ্বকাপের শিরোপা এনে দেন।
এবারের বিদায়ের ঘোষণা থেকে মেসির আবারও ফিরে আসার সম্ভাবনা কম বলেই মনে করা হচ্ছে। তবে তার দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো এখনো নিজের আন্তর্জাতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে চূড়ান্ত কোনো ঘোষণা দেননি।



















