দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে ফুটপাতের অভাব এবং মহাসড়কের দুই পাশ অবৈধভাবে দখল করে দোকান ও যানবাহন রাখার কারণে বাড়ছে যানজট ও দুর্ঘটনার ঝুঁকি। পরিস্থিতি মোকাবিলায় এক থেকে দুই মাসের মধ্যে উচ্ছেদ অভিযান চালানোর প্রস্তুতি নিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার রানীগঞ্জ বাজার, কানাগাড়ী ও পৌরসভার বাগেরহাট বাজার এলাকায় দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের দুই পাশে দোকানপাট ও পণ্যসামগ্রী রাখার কারণে পথচারীদের চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। ফুটপাত না থাকায় সাধারণ মানুষকে বাধ্য হয়ে মহাসড়কের মূল অংশ দিয়েই চলাচল করতে হচ্ছে, যা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সরেজমিনে দেখা যায়, মহাসড়কসংলগ্ন এলাকায় স্থায়ী ও ভ্রাম্যমাণ দোকান গড়ে উঠেছে। দোকানের সামনে বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইজিবাইক, সিএনজি ও অটোভ্যান যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকায় সড়কের চলাচলের জায়গা আরও সংকুচিত হয়েছে। কোথাও কোথাও সড়কের পাশে মাটি ভরাট করায় বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনেও সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। আবার ড্রেনের ওপর বসানো স্লাবের ওপর মালামাল রাখায় পথচারীদের বিকল্প চলাচলের পথও অনেক স্থানে বন্ধ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় নারী, শিশু ও বয়স্কসহ সাধারণ মানুষকে দ্রুতগতির বাস, ট্রাক ও অন্যান্য যানবাহনের পাশ দিয়ে মহাসড়ক ব্যবহার করতে হচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, পরিকল্পিত ফুটপাত ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাব, মহাসড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা এবং অনিয়ন্ত্রিত যানবাহন পার্কিংয়ের কারণে দীর্ঘদিন ধরে এ সমস্যা চলছে। তারা অবৈধ দখল উচ্ছেদ, পরিকল্পিত ফুটপাত ও ড্রেনেজ নির্মাণ এবং ইজিবাইক, সিএনজি ও অটোভ্যানের জন্য নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড স্থাপনের দাবি জানিয়েছেন।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) দিনাজপুর সূত্র জানায়, মহাসড়ক আইন, ২০২১ এবং উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী মহাসড়কের ভূমির প্রান্তসীমা থেকে পরবর্তী ৩৩ ফুটের মধ্যে স্থাপনা নির্মাণে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে ঘোড়াঘাটের বিভিন্ন বাজার এলাকায় এ বিধিনিষেধ মানা হচ্ছে না। সওজ দিনাজপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী আসাদুজ্জামান বলেন, মহাসড়কের সীমানা নির্ধারণে সার্ভেয়ারদের মাধ্যমে মাপজোখ শুরু হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
ঘোড়াঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রুবানা তানজিন বলেন, উচ্ছেদ অভিযানের আগে মাইকিংয়ের মাধ্যমে অবৈধ দখলদারদের সতর্ক করা হবে। এরপরও স্থাপনা সরিয়ে না নিলে জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে। একই সঙ্গে নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে মহাসড়ক দখলমুক্ত রাখতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়া হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, উচ্ছেদের পাশাপাশি পরিকল্পিত ফুটপাত নির্মাণ ও নিয়মিত নজরদারির মাধ্যমে মহাসড়কে নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করা হবে।



















