ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা শনিবার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। তাদের অভিযোগ, সৌদি বাহিনী ইয়েমেনের বেসামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালিয়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ আরও বিস্তৃত আকার ধারণ করেছে।
খবর বার্তা সংস্থা এএফপি’র।
শুক্রবার সৌদি আরব ইয়েমেনের হোদেইদা অঞ্চলে হুথিদের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর আগে হুথিরা বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ তেল উৎপাদনকারী দেশ সৌদি আরবের বিরুদ্ধে সমুদ্রপথে অবরোধ ঘোষণা করে এবং সৌদি জাহাজে হামলার দাবি করে। বিদ্রোহী-নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম জানিয়েছে, সৌদি হামলায় অন্তত দুইজন আহত হয়েছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ফেব্রুয়ারিতে ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়েছে, এই নতুন উত্তেজনা সেই যুদ্ধেরই আরেকটি নতুন অধ্যায়। একই সময়ে ইরানের হরমুজ প্রণালী অবরোধের কারণে সৌদি আরবের বিকল্প সমুদ্রপথও চাপের মুখে রয়েছে।
হুথিদের গণমাধ্যম আনসারুল্লাহ মিডিয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানায়, ‘হোদেইদা ও কামারান দ্বীপের বেসামরিক স্থাপনায় সৌদি হামলা অত্যন্ত বিপজ্জনক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। এই অপরাধের জবাব অবশ্যই দেওয়া হবে।’
এএফপিকে ইয়েমেনের এক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানান, সৌদি বাহিনীর হামলার লক্ষ্য ছিল হোদেইদা বন্দরের নৌঘাঁটি এবং কামারান দ্বীপের একটি সামরিক শিবির।
অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট জানিয়েছে, লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য হুমকি হয়ে ওঠা হুথিদের সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে হুথিরা দুটি সৌদি জাহাজে হামলার দাবি করে। সৌদি আরবও লোহিত সাগরে তাদের একটি জাহাজে হামলার ঘটনা নিশ্চিত করেছে।
সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র তুর্কি আল-মালিকি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ বলেন, ‘সন্ত্রাসী হুথি বাহিনী লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘লোহিত সাগরে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে হুমকি সৃষ্টি করতে ব্যবহৃত হুথিদের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে জোট বাহিনী কঠোর ও জোরালো পাল্টা হামলা চালিয়েছে। এই সামরিক অভিযান এখন শেষ হয়েছে।’



















