নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির দ্রুত বাস্তবায়ন শাহজাদপুরে দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ সিরাজগঞ্জ-৬ (শাহজাদপুর) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম. এ. মুহিতের উদ্যোগে শাহজাদপুরের রতনকান্দি পুরাতন বাজারসংলগ্ন ব্রিজের দীর্ঘদিনের ঝুঁকিপূর্ণ আপ্রোচ সড়ক মেরামতকাজ শেষের পথে। বার্তমানে সড়কটির প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে অন্তি ফিরেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারণার সময় স্থানীয়দের দেওয়া আশ্বাসের ধারাবাহিকতায় দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রতনকান্দি ব্রিজের আপ্রোচ সড়ক মেরামতের উদ্যোগ নেন ড. এম. এ. মুহিত। এ কাজ বাস্তবায়নে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) তিনি প্রথম ডিও (উ.ড.) লেটার দেন। এরপর সংশ্লিষ্ট দপ্তরের মাধ্যমে সড়কটি মেরামতের প্রক্রিয়া শুরু হয়।
এলজিইডি শাহজাদপুর অফিস সূত্রে জানা গেছে, রতনকান্দি ব্রিজের আঅ্যাপ্রোচ সড়ক মেরামতকাজের চুক্তিমূল্য ৩৩ লাখ ৬৬ হাজার ১৩৫ টাকা। কাজটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পেয়েছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জাহান এন্টারপ্রাইজ। ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে কাজ শেষ কররার সময়সীমা থাকলেও ইতোমধ্যে প্রায় ৮০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন সড়কের কার্পেটিং ও রঙের কাজ বাকি রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আগামী সপ্তাহের মধ্যে এসব কাজ শেষ করার লক্ষ্য রয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচারণাকালে রতনকান্দি এলাকায় গেলে স্থানীয় দোকানদার মো. নাঈমুল হোসেন ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়কের দুরবস্থার বিষয়টি ড. এম. এ. মুহিতের কাছে তুলে ধরেন। এ সময় তিনি সড়কটি মেরামতের আশ্বাস দেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, দীর্ঘদিন বয়ে রতনকান্দি ব্রিজের অ্যাপ্রোচ সড়কের ঢালু অংশ খানাখন্দে ভরা ও ঝুঁকিপূর্ণ ছিল। সড়কটি সমতল থেকে অতিরিক্ত উঁচু এবং বেহাল থাকায় ব্রিজ দিয়ে চলাচলকারী যানবাহন ও সাধারণ মানুষকে নিয়মিত দুর্ভোগ পোহাতে হতো। এ সড়কে একাধিক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে জানান তারা। বিভিন্ন দপ্তরে আবেদন-নিবেদন করেও দীর্ঘদিন সড়কটি মেরামতের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। রতনকান্দি গ্রামসহ রূপবাটি ও গালা ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল
করেন। পাশাপাশি আশপাশের পাঁচটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাও নিয়মিত সড়কটি ব্যবহার করে। ফলে সড়কের বেহাল অবস্থায় শিক্ষার্থী, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হতো।
এলাকাবাসী জা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি সংস্কারের দাবি জানানো হলেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি। নির্বাচনের সময় বিষয়টি ড. এম. এ. মুহিতের নজরে আনা হলে তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর সেই অনুযায়ী মেরামতকাজ শুরু হওয়ায়
তারা সন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা ও দোকানদার মো. নাঈমুল হোসেন বলেন, “অনেক সময় নির্বাচনের আগে দেওয়া কথা পরে আর মনে থাকে না। কিন্তু ড. এম. এ. মুহিতের ক্ষেত্রে আমরা তার ব্যতিক্রম দেখছি। তিনি দায়িত্ব পাওয়ার পরই রতনকান্দি ব্রিজের সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নিয়েছেন।” মেরামতকাজের বড় অংশ শেষ হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। এলাকাবাসীর প্রত্মাশা, অবশিষ্ট কাজ দ্রুত শেষ করার পাশাপাশি নির্মাণকাজে যথাযথ মান বজায় রাখা হবে।



















