একসময় ঢাকাই চলচ্চিত্রের পরিচিত মুখ ছিলেন চিত্রনায়িকা বনশ্রী। সাফল্যের শিখর ছুঁয়ে শেষ জীবনে দারিদ্র্য, সংগ্রাম ও নিঃসঙ্গতার মধ্য দিয়ে কাটানো এই অভিনেত্রীর প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ।
১৯৯৪ সালে ইলিয়াস কাঞ্চনের বিপরীতে ‘সোহরাব-রুস্তম’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বড় পর্দায় অভিষেক হয় বনশ্রীর। প্রথম সিনেমাটিই ব্যবসাসফল হয়। পরে তিনি মান্না, আমিন খান ও রুবেলের মতো জনপ্রিয় নায়কদের সঙ্গে ‘নেশা’, ‘মহাভূমিকম্প’, ‘প্রেম বিসর্জন’ এবং ‘ভাগ্যের পরিহাস’সহ একাধিক চলচ্চিত্রে অভিনয় করে নব্বই দশকের দর্শকদের কাছে পরিচিতি পান।
তবে চলচ্চিত্রজীবনের সাফল্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি অভিনয়জগৎ থেকে সরে যান। এরপর জীবিকার তাগিদে শাহবাগে ফুল বিক্রি, বাসে হকারি করাসহ নানা কাজ করতে হয়েছে তাকে। অর্থকষ্টের কারণে জীবনের একটি সময় বস্তিতেও কাটাতে হয়েছে।
ব্যক্তিজীবনেও বনশ্রীকে বয়ে বেড়াতে হয়েছে গভীর শোক। দুই সন্তানের মধ্যে মেয়েকে হারান তিনি। পরে ছেলে মেহেদী হাসান রোমিওকে নিয়ে জীবনের শেষ অধ্যায় পার করেন। শেষ পর্যন্ত ঢাকার জীবন ছেড়ে নিজ জেলা মাদারীপুরের শিবচরে ফিরে যান এবং আশ্রয়ণ প্রকল্পের একটি ছোট ঘরেই বসবাস শুরু করেন।
২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন বনশ্রী। আজ তার প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী। একসময় রুপালি পর্দায় আলো ছড়ানো এই অভিনেত্রীকে স্মরণে বড় কোনো আয়োজন না থাকলেও তার জীবনসংগ্রাম ও উত্থান-পতনের গল্প এখনও চলচ্চিত্রাঙ্গনের এক বাস্তব প্রতিচ্ছবি হয়ে আছে।



















