ঝিনাইদহের কালীগঞ্জে কৃষক নায়েব আলী হত্যা মামলায় ছেলে আলামিনকে মৃত্যুদণ্ড এবং তার বাবা ইউনুস আলীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে দুই আসামিকে অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে ঝিনাইদহ জেলা ও দায়রা জজ মো. মাসুদ আলী আসামিদের উপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত পিতা-পুত্র কালীগঞ্জ উপজেলার মালিয়াট গ্রামের বাসিন্দা। আদালত মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আলামিনকে ৫০ হাজার টাকা এবং যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্ত ইউনুস আলীকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেন।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ২৮ মে নিজ জমিতে কাজ শেষে স্থানীয় জামিরুলের দোকানে পানি পান করতে গেলে আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা আসামিরা কৃষক নায়েব আলীর ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে তিনজনকে আসামি করে কালীগঞ্জ থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার তদন্ত চলাকালে প্রধান আসামি আলামিনকে গ্রেপ্তার করা হলে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কালীগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শামীম আক্তার পিতা-পুত্রকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। অভিযোগের সঙ্গে সম্পৃক্ততা না পাওয়ায় রাশিদা বেগম নামে এক নারীকে অভিযোগপত্র থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
মামলায় ১৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও অন্যান্য প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট এস এম মশিউর রহমান এবং সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) অ্যাডভোকেট আকিদুল ইসলাম। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট আবু তালেব ও অ্যাডভোকেট তৌহিদুল ইসলাম। রায়ের পর এপিপি আকিদুল ইসলাম বলেন, সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন এবং রাষ্ট্রপক্ষ এতে সন্তুষ্ট।



















