Tuesday , 28 July 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য খেলা
  2. অস্ট্রেলিয়া (ওশেনিয়া) মহাদেশ
  3. অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
  4. আইন-আদালত
  5. আন্তর্জাতিক
  6. আফ্রিকা মহাদেশ
  7. আবহাওয়া
  8. ইউরোপ মহাদেশ
  9. উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
  10. এশিয়া মহাদেশ
  11. কৃষি
  12. ক্যাম্পাস
  13. ক্রিকেট
  14. খেলাধুলা
  15. গণমাধ্যম

প্রতিবেদক
বাসস
July 28, 2026 8:07 am

প্রতিটি বাঙালি মেয়ের মতো মাদারীপুরের শেফালীও যৌবনে পা দেয়ার পর থেকেই স্বামী-সন্তানসহ পরিপূর্ণ একটি সুখি সংসারের স্বপ্ন দেখছিল। এই স্বপ্ন দেখার মাঝে কোনো বিলাসিতা ছিল না। কারণ একটি মেয়ের যেসব গুণ থাকলে আমাদের সমাজ তাকে উপযুক্ত পাত্রি হিসেবে বিবেচনা করে, তার সবই আছে শেফালীর। বিশ্ববিদ্যালয়ের অনার্স ক্লাসে অধ্যয়নরত শেফালীর তাই বিয়ের প্রস্তাব আসতে বিলম্ব হয়নি।

এদিকে আপন বোনের দেবর মহিউদ্দিন মাঝে মাঝে শেফালীদের বাসায় বেড়াতে আসতো। শেফালী বুঝতে পারতো বোনের দেবর তাকে পছন্দ করে। যেহেতু বোনের দেবর তাই সে তার প্রতি তেমন কোনো আগ্রহ দেখায়নি। কিন্তু এক সময় শেফালী বুঝতে পারে সেও মহিউদ্দিনকে ভালোবেসে ফেলেছে। পারিবারিক সম্মাতিতে এক সময় তাদের বিয়ে হয়।

মহিউদ্দিন-শেফালীর দাম্পত্য জীবন বেশ সুখেই কাটছিল। এক সময় শেফালী সন্তান সম্ভবা হয়। প্রতিটি দম্পতির বিবাহিত জীবনে পরিপূর্ণতা আসে সন্তান জন্মদানের মাধ্যমে। তাই আসন্ন সন্তানের মুখ দর্শনের আশায় শেফালী ব্যাকুল হয়ে পড়ে। এক সময় আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। শেফালী প্রসব বেদনায় অস্থির হয়ে ওঠে। গ্রামের এক মহিলাকে ডেকে আনা হয়, যিনি অনেক দিন ধরেই ধাত্রীর কাজ করছিলেন। তিনি এসেই শেফালীর সন্তান প্রসবের জন্য চেষ্টা করতে থাকেন। আসলে তখনো তার সন্তান প্রসবের সময় হয়নি। কিন্তু ধাত্রীর তর সইছিল না। কারণ তার অন্য জায়গায় যাওয়ার তাড়া ছিল। তাই তিনি যেনোতেনো ভাবে সন্তান প্রসব করানোর উদ্যোগ নেন। এভাবে জোর করে প্রসব করাতে গিয়ে শেফালীর তো ক্ষতি হলোই, তার সন্তান রিসাতও বিকলাঙ্গ হয়ে যায়। রিসাতের এখন সাত বছর বয়স। কিন্তু সে হাঁটাচলা করতে পারে না। এমনকি স্বাভাবিক শিশুদের মতো কথাও বলতে পারে না। অদক্ষ গ্রাম্য ধাত্রীর ক্ষণিকের ভুলে একটি ছেলের জীবন নষ্ট হলো।

শেফালী ও রিসাতের সংসারের এই দুর্ঘটনা আমাদের সমাজে নতুন কিছু নয়। প্রতিনিয়তই গ্রাম এলাকায় অশিক্ষিত, অদক্ষ ধাত্রীর হাতে পড়ে এভাবে প্রতিবছর শত শত শেফালী তার ভবিষ্যৎ স্বপ্নকে জলাঞ্জলি দিচ্ছে।

বাংলাদেশে মেয়েদের অকেকেরই খুবই অল্প বয়সে বিয়ে হয়। প্রায় ৪৮ শতাংশেরই বয়স থাকে ১১ থেকে ১৮ বছর। বিয়ের এক থেকে দেড় বছরের মধ্যেই ৮০ শতাংশ মেয়ে সন্তান জন্ম দেয়। প্রসবকালীন নানা জটিলতায় প্রতি হাজারে ৪.২০ জন নারী প্রাণ হারায়। এছাড়া প্রসবকালীন জটিলতায় মারা যায় অনেক শিশু।

অথচ একটু যত্নবান হলেই এ মৃত্যু ঠেকানো সম্ভব। গ্রাম্য ধাত্রীর অসচেতনতা এবং অতিরিক্ত লোভের কারণে মহিউদ্দিন-শেফালী দম্পতির প্রথম সন্তান রিসাত শারীরিক প্রতিবন্ধিতা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছে। দ্বিতীয় সন্তান জন্মদানের সময় এই দম্পতি আগের ভুলের পুনরাবৃত্তি হতে দেয়নি। সন্তান প্রসব করার আগেই শেফালীকে জেলা সদরের আধুনিক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তিনি একটি ফুটফুটে সন্তান জন্ম দেন। আগের সন্তানের জন্মের সময়ে শেফালীকে যদি হাসপাতালে ভর্তি করানো হতো তাহলে হয়তো রিসাতকে শারীরিক প্রতিবন্ধি হতে হতো না। সামান্য ভুলের মাশুল এখন এই দম্পত্তিকে সারাজীবন ধরে দিতে হবে।

আমাদের অসচেতনতা বা ভুলের কারণে প্রতিবছর অসংখ্য মায়ের মৃত্যু হয়। আমরা একটু সতর্ক হলেই এ ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে পারি। আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রসবকালীন স্বাস্থ্য পরিচর্যা নিয়ে সাংঘাতিক রকম ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই গর্ভবতী মাকে উপযুক্ত এবং পরিমিত খাবার দেন না। তারা মনে করেন, গর্ভাবস্থায় মা যদি অতিরিক্ত খাবার খান তাহলে পেটের সন্তান আকারে বড় হবে এবং সেই সন্তান প্রসবকালীন জটিলতার শিকার হবে। আসলে এ ধারণা মোটেও ঠিক নয়। আবার অনেকে পর্দা নষ্ট হবে এই আশঙ্কায় প্রসবকালীন সময় হাসপাতালে বা কোন ডাক্তারের নিকট যেতে চান না। এতে গর্ভবতী মায়ের জীবন শংকা অনেক গুণ বেড়ে যায়।

জানা যায়, আমাদের দেশের ২২ শতাংশ মা গর্ভকালীন প্রশিক্ষিত ধাত্রী এবং হাসপাতালের সেবা লাভ করে থাকেন। অবশিষ্ট মায়েরা এখনো গর্ভকালীন উন্নত সেবা পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আর এ কারণে প্রতিবছর শত শত মা ও শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। অথবা শিশুরা শারীরিক প্রতিবন্ধিতা নিয়ে জন্মগ্রহণ করছে।

শুধু আর্থিক কারণে নারীরা সন্তান প্রসবকালে গ্রাম্য ধাত্রীর শরণাপন্ন হয়, তা ঠিক নয়। দেখা গেছে, বিত্তবানদের মাঝেও গ্রামীণ ধাত্রীর মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর প্রবণতা রয়েছে। মহিউদ্দিন-শেফালী দম্পতি আর্থিক সমস্যার কারণে হাসপাতালে যায়নি, এটা ঠিক নয়। কারণ আর্থিক অবস্থা মোটেও খারাপ নয়। তারা গ্রাম্য ধাত্রীর কাছে গিয়েছিল শুধু সচেতনতার অভাবে। এখন তাদের এই সামান্য ভুলের মাশুল দিতে হচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও দিতে হবে।

চিকিৎসকের মতে, প্রসবকালীন অশিক্ষিত গ্রাম্য ধাত্রীর সাহায্য নেয়া খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। তাদের কারণে যে কোনো সময় মায়ের মৃত্যু হতে পরে। এমনকি শিশুটিরও সমস্যা হতে পারে। আমাদের দেশে যেহেতু দক্ষ ধাত্রীর অভাব তাই কোনো ধরণের ঝুঁকি না নিয়ে প্রসবকালীন রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে নেয়ার উদ্যোগ নিতে হবে। অনেকেই হয়তো মনে করবেন, হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যয় অনেক বেশি। কিন্তু একটি বাচ্চা জন্ম দিতে গিয়ে যদি মায়ের মৃত্যু হয় অথবা শিশুটিকে মৃত্যু বা পঙ্গুত্ববরণ করতে হয় তার ক্ষতি কি চিকিৎসা ব্যয়ের চেয়ে কম? প্রসবকালীন মাতৃ ও শিশুমৃত্যুর ব্যাপারে জনসচেতনতা সৃষ্টি করা খুবই জরুরি এবং অত্যাবশক।

মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোল্স এর অন্যতম লক্ষ্য হচ্ছে মাতৃমুত্যু ও শিশুমৃত্যুর হার কমিয়ে আনা। এই লক্ষ্য বাস্তত্মবায়নে আমাদের সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। আমাদের সামান্য অসচেতনতার কারণে আর যেন কোনো শিশু বা মায়ের জীবন বিপন্ন না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে সকলকে।

সর্বশেষ - আইন-আদালত

আপনার জন্য নির্বাচিত

জয়পুরহাট ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি আব্দুল খালেক এর চাচার জানাযা সম্পন্ন

নতুন আলোচনার জন্য পাকিস্তানের পথে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিরা

জুলাই আন্দোলনে শহীদ বিশালের রুহের মাগফিরাত কামনায় পাঁচবিবিতে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

আমার মুক্তির সূচনা আবু সাঈদের রক্তে – এটিএম আজহার

ফ্রান্সে স্কুলে যাওয়ার পথে প্রেমিকের ছুরিকাঘাতে ১৪ বছরের কিশোরী নিহত

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় জাবির শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ হল সংসদ কর্তৃক ৩০টি ডাস্টবিন ক্রয়

মাভাবিপ্রবি ছাত্রদলের উদ্যোগে ৪৭তম বিসিএস প্রিলিতে শিক্ষার্থীদের ফ্রি বাস সার্ভিস

পাবনা প্রেসক্লাবের সদস্যদের সঙ্গে রাষ্ট্রপতির মতবিনিময়

ঝিনাইদহ-কুষ্টিয়া মহাসড়কে অজ্ঞাত গাড়ির ধাক্কায় পথচারী নিহত

মহিপুরে সেনাবাহিনীর বিশেষ অভিযানে গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী আটক