কৃষক কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে কৃষক এবং মৎস্যজীবী ও প্রাণিসম্পদ খামারীদের বাড়িতে বাড়িতে যেয়ে তথ্য সংগ্রহের কাজ এগিয়ে যাচ্ছে নাটোরে। জেলার সাতটি কৃষি ব্লকে ১২ হাজার ৯৬ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে-যা লক্ষ্যমাত্রার ৬৫ শতাংশ।
জেলা এবং উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাবৃন্দ কৃষক কার্ড তৈরিতে তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করছেন। গতকাল বিকেলে নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর কৃষি ব্লক এবং নলডাঙ্গা উপজেলার সমসখলসী কৃষি ব্লকে এই কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক (ক্রপ উইং) ড. সালমা লাইজু।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, জেলার সাতটি উপজেলায় একটি করে কৃষি ব্লকে কৃষক কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে গত ১৬ জুলাই থেকে কার্যক্রম শুরু করা হয়। এরআগে সাতটি কৃষি ব্লকে তথ্য সংগ্রহের সাথে সংশ্লিষ্ট ৮২ জন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের উপজেলা ভিত্তিক প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সাতটি কৃষি ব্লকে সম্ভাব্য কৃষকের সংখ্যা নির্ধারণ করা হয় ১৮ হাজার ৫৯৫ জন। ইতোমধ্যে ১২ হাজার ৯৬ জন কৃষকের ছবি তোলাসহ তথ্য সংগ্রহের কার্যক্রম শেষ হয়েছে। এরমধ্যে নাটোর সদর উপজেলায় ১হাজার ৪৫৯ জন, নলডাঙ্গায় ২ হাজার ১১০ জন, সিংড়ায় ২ হাজার ২০৮ জন, গুরুদাসপুরে ১ হাজার ৭৯৫ জন, বড়াইগ্রামে ২ হাজার ৩৪৭ জন, লালপুরে ৮৫৪ জন এবং বাগাতিপাড়া উপজেলায় ১ হাজার ৩২২ জন।
নাটোর সদর উপজেলার হয়বতপুর কৃষি ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান বাসস’কে জানান, নির্ধারিত প্রশ্নপত্রে কৃষকদের কাছ থেকে আবাদী জমির পরিমাণ, তিনটি কৃষি মৌসুমে চাষাবাদকৃত ফসলের তথ্য, ব্যবহৃত রাসায়নিক ও জৈব সার, সেচ, প্রণোদনা প্রাপ্তি ইত্যাদি তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এছাড়া প্রাণিসম্পদ খামারীদের কাছ থেকে গবাদী পশু বা হাঁসমুরগী পালন এবং মৎস্যচাষীদের কাছ থেকে মৎস্য চাষাবাদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
নলডাঙ্গা উপজেলার সমসখলসী কৃষি ব্লকে দায়িত্ব পালনকারী উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. শাজাহান আলী জানান, প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় অনেক সময় নেটওয়ার্কের সমস্যা হচ্ছে। তাই সংগৃহীত তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে ক্ষেত্র বিশেষে অপেক্ষা করতে হয়েছে। এছাড়া সকল কাজ সুচারুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে।
সিংড়া উপজেলার ভাগনাগরকান্দি কৃষি ব্লকের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হুমায়রা জান্নাত জানান, আমাদের টিমে ১২ জন উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা কাজ করছেন। লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। যেসব কৃষকদের বাড়িতে পাওয়া যায়নি, এখন মূলত তাদের সাথে যোগাযোগ করে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।
সিংড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদ হাসান বাসস’কে জানান, কৃষক কার্ড প্রদানের লক্ষ্যে সংগৃহীত তথ্যে একজন কৃষকের যাবতীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে প্রদত্ত সহায়তা প্রদানে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এই কার্ড সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। বিশেষ করে কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের ক্রয়কৃত সারের তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। তাই আগামীতে সারের কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি রোধ সম্ভব হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর নাটোর জেলা কার্যালয়ের উপ পরিচালক মো. হাবিবুল ইসলাম খান বাসস’কে বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষক কার্ডের ছবিসহ তথ্য সংগ্রহের কাজ আমরা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছি। এ পর্যন্ত অগ্রগতির হার ৬৫ শতাংশ। নির্ধারিত ৫ আগস্টের আগেই সকল কাজ সমাধা হবে বলে আশা করছি।


















