নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ১৪ দিন বয়সী এক নবজাতককে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের ড্রামে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার মায়ের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নবজাতকের মা ফাতেমা বেগমকে আটক করেছে পুলিশ।
সোমবার (১৭ আগস্ট) রাত ১০টার দিকে উপজেলার মিরওয়ারিশপুর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদারহাট সংলগ্ন বাজার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। নিহত নবজাতক ওই এলাকার সৌরভ হোসেন ও ফাতেমা বেগম দম্পতির ছেলে। ফাতেমা বেগম উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের শরীফ উল্যার মেয়ে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রেমের সম্পর্কের পর ২০২৫ সালে সৌরভের সঙ্গে ফাতেমার বিয়ে হয়। এরপর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে কলহ চলছিল। সোমবার সন্ধ্যার পর নবজাতককে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ফাতেমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি প্রথমে দাবি করেন, পেছন থেকে মাথায় আঘাত করে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা শিশুটিকে নিয়ে গেছে। পরে তিনি বলেন, শিশুটিকে ‘জিন’ নিয়ে গেছে। এতে পরিবারের সদস্যদের সন্দেহ হলে তারা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
একপর্যায়ে রাত ১০টার দিকে ঘরের ভেতরে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের একটি প্লাস্টিকের ড্রাম থেকে নবজাতকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে ফাতেমা সন্তানকে ড্রামের পানিতে ফেলে হত্যার কথা স্বীকার করেন। তার দাবি, নবজাতক বেশি কান্নাকাটি করত, ঘুমাতে দিত না এবং এতে বিরক্ত হয়ে তিনি এ কাজ করেন।
বেগমগঞ্জ থানার ওসি মো. শামসুজ্জামান বলেন, নবজাতককে পানিতে ফেলে হত্যার অভিযোগে তার মাকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















