উত্তরাঞ্চলের কৃষিকে আরও টেকসই, লাভজনক ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনমুখী করতে বগুড়ায় আয়োজিত দুই দিনব্যাপী বিশেষ কৃষি উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আজ শেষ হচ্ছে। সমাপনী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী উদ্যোক্তাদের হাতে সনদ তুলে দেওয়া হবে।
মঙ্গলবার বিকেলে বগুড়া শহরের বনানীতে অবস্থিত হর্টিকালচার সেন্টারের প্রশিক্ষণ হলরুমে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে সনদ বিতরণের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি হবে। এর আগে সোমবার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রশিক্ষণের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বগুড়া অঞ্চলের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক মো. আব্দুল ওয়াদুদ। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন ফিরোজ।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর বগুড়া জেলার প্রশিক্ষণ অফিসার মো. নুরুল ইসলাম বাসস’কে জানান, বগুড়া অঞ্চলে কৃষিকে আরও লাভজনক ও নিরাপদ পেশা হিসেবে গড়ে তুলতে স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তাদের নিয়ে এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ১০টি সেশনের মাধ্যমে উদ্যোক্তাদের বাস্তবভিত্তিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে বেসরকারি পর্যায়ে কৃষিপণ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় আর্থিক ও কারিগরি সহায়তার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে তারা ধারণা পান।
তিনি আরও বলেন, কৃষিপণ্যে রাসায়নিক সার ও বালাইনাশকের অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার কমিয়ে জৈব সারের ব্যবহার বাড়ানোর মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন নিশ্চিত করাই এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য। পাশাপাশি সরকারি বীজের অপ্রতুলতা মোকাবিলায় বেসরকারি পর্যায়ে মানসম্মত বীজ উৎপাদন এবং কৃষি উদ্যোক্তাদের সামাজিক ও কারিগরি চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কৌশলও প্রশিক্ষণে তুলে ধরা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে উদ্যানতাত্ত্বিক ফসল ও ফলের চারা উৎপাদন, ‘পোস্ট হারভেস্ট টেকনোলজি’র মাধ্যমে ফসল কাটার পর ক্ষতি কমানো, ভার্মি কম্পোস্ট ও ট্রাইকো কম্পোস্ট উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ, মাশরুম চাষ, ফুড প্রসেসিং এবং উন্নতমানের ধান ও গমের বীজ উৎপাদনের আধুনিক কৌশল বিষয়ে হাতে-কলমে ধারণা দেওয়া হয়।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া শিবগঞ্জ উপজেলার মোকামতলা দেউলী ইউনিয়নের উদ্যোক্তা কৃষক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ৩শ’ শতাংশ (৩ একর) জমিতে পলিনেট হাউস, চারা উৎপাদনের নার্সারি, সমন্বিত গরুর খামার ও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনের কাজ করছেন। পাশাপাশি জিরা, আদা, রসুন ও হলুদের মতো উচ্চমূল্যের মসলা চাষেও সফল হয়েছেন। তিনি বলেন, আগে সাধারণ কৃষক হিসেবে প্রশিক্ষণ নিলেও এবার উদ্যোক্তা হিসেবে দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে অংশ নিয়েছেন। অর্জিত জ্ঞান নিজের খামারে প্রয়োগের পাশাপাশি স্থানীয় কৃষকদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে চান।


















