প্রতিনিধি 21 September 2026 , 5:43:10 প্রিন্ট সংস্করণ
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্ব ধর্ম ও সংস্কৃতি বিভাগের মাস্টার্সের শিক্ষার্থী শাহরিন আক্তার ইপা অভিযোগ করেছেন, মাত্র ৬০০ টাকার বৃত্তির অর্থ পেতে তাকে প্রায় দুই মাস ধরে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও ব্যাংকে ঘুরতে হয়েছে। প্রশাসনিক জটিলতার কারণে এমন ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে দাবি তার।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী সংসদ নামের একটি ফেসবুক গ্রুপে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন শাহরিন। তিনি লেখেন, ‘এই হচ্ছে দ্য মাইটি প্রশাসন।’ ৬০০ টাকা পেতে এত দৌড়ঝাঁপকে তিনি ব্যঙ্গ করে উল্লেখ করেন, এটি যেন ‘ঢাবির স্টুডেন্ট হওয়ার শাস্তি’।
শাহরিনের পোস্ট অনুযায়ী, রেঞ্জার থেকে বৃত্তির টাকা পাওয়ার পর প্রথমে তাকে শামসুন নাহার হল অফিসে যেতে হয়। সেখানে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা তার বৃত্তি পাওয়ার শিক্ষাবর্ষের পে-স্লিপ চান। সে সময় ভর্তি কার্যক্রম শেষ না হওয়ায় তিনি পে-স্লিপ দিতে পারেননি। পরে ভর্তি সম্পন্ন হওয়ার পর আবার হল অফিসে গেলে তাকে পে-স্লিপের হার্ড কপি নিয়ে আসতে বলা হয়।
তিনি জানান, মোবাইলে থাকা পে-স্লিপ দেখালেও তা গ্রহণ করা হয়নি। পরে প্রিন্ট করা কপি নিয়ে গেলে সেটিও জমা নেওয়া হয়নি। কেন প্রিন্ট করে আনতে বলা হলো, জানতে চাইলে তাকে জানানো হয়, পে-স্লিপটি তার প্রয়োজন হবে। এরপর কয়েকটি কাগজে স্বাক্ষর নিয়ে নির্দিষ্ট দিনে আসতে বলা হয়। প্রভোস্টের স্বাক্ষরের পর কাগজপত্র নিয়ে রেজিস্ট্রার ভবনে যেতে বলা হয়।
রেজিস্ট্রার ভবনে গিয়ে নতুন করে ভোগান্তিতে পড়ার অভিযোগ করেন শাহরিন। তার ভাষ্য, একই নম্বরের ‘ক’, ‘খ’ ও ‘গ’—তিনটি কক্ষের মধ্যে কোনটিতে যেতে হবে, তা হল অফিস থেকে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ফলে তাকে তিনটি কক্ষেই যেতে হয়। সঠিক কক্ষে পৌঁছানোর পরও এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে পাঠানো হয়। সেখানে আবার পে-স্লিপ দেখাতে হয় এবং পরে তাকে ১৫ থেকে ২০ দিন পর আসতে বলা হয়।
প্রায় ২০ দিন পর গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরপর ব্যাংক হিসাব নম্বর লিখে একটি স্লিপ দিয়ে তাকে পাশের কক্ষে পাঠানো হয়। সেখানে থাকা নথির মধ্যে নিজের নাম নিজেকেই খুঁজে বের করতে বলা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে কর্মকর্তার সহায়তায় নথি খুঁজে পাওয়ার পরও স্বাক্ষর ও পরিচয়পত্র যাচাইয়ের ধাপ পার হতে হয়।
শাহরিন জানান, টাকা হাতে পাওয়ার আগেই তার পরিচয়পত্র দেখাতে বলা হয়। হল কার্ড দেখানোর পর আরও একজনের কাছে তা দেখাতে বলা হলেও ওই ব্যক্তি তখন উপস্থিত ছিলেন না। এদিকে ব্যাংক বন্ধ হওয়ার সময় ঘনিয়ে আসায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন। সংশ্লিষ্টদের বিষয়টি জানালে তাকে বলা হয়, ব্যাংক বন্ধ হয়ে গেলে পরদিন আসতে হবে। জবাবে তিনি জানান, এই টাকা পেতে তিনি প্রায় দুই মাস ধরে ঘুরছেন।
পরে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ফিরে এলে আবার কাগজপত্র ও পরিচয়পত্র যাচাই করা হয় এবং আরও একটি স্বাক্ষর নেওয়া হয়। এরপর তাকে চেক দেওয়া হয়। সেই চেক নিয়ে ব্যাংকে যাওয়ার পরও এক কাউন্টার থেকে অন্য কাউন্টারে তিনবার যেতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেন শাহরিন। সব প্রক্রিয়া শেষে তিনি ৬০০ টাকার বৃত্তির অর্থ হাতে পান।
এই অভিজ্ঞতার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শাহরিন। তার মতে, রেঞ্জার থেকে বৃত্তির টাকা সরাসরি সংশ্লিষ্ট হলের হিসাবে পাঠানো হলে হল অফিস থেকেই স্বাক্ষর নিয়ে শিক্ষার্থীদের টাকা দেওয়া সম্ভব ছিল। অন্যথায় পুরো প্রক্রিয়া কম্পিউটারাইজড করা যেত।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে শিক্ষার্থীদের তথ্য যাচাই করা থাকলে একই তথ্যের জন্য বারবার পে-স্লিপসহ কাগজপত্র চাওয়ার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। শাহরিন বলেন, ‘চাইলেই প্রসেসগুলা ইজি করা যাইতো।’ তার প্রশ্ন, একটি ছোট অঙ্কের বৃত্তির টাকা পেতে একজন শিক্ষার্থীকে কেন এতগুলো দপ্তর, স্বাক্ষর ও ধাপ পার হতে হবে।
ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি লেখেন, ‘মাত্র ৬০০ টাকার জন্য এত দৌড় করাইলো। ঢাবির স্টুডেন্ট হওয়ার শাস্তি!’

















