নিজস্ব প্রতিবেদক:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলে ৫৫তম আবর্তনের শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ এবং বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) উৎসবমুখর পরিবেশে হলের ডাইনিং কক্ষে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক। এতে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি অধ্যাপক লুৎফুল এলাহী, জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু, জাকসুর জিএস ও বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রশিবিরের সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম, ছাত্রদলের আহ্বায়ক জহির উদ্দিন বাবর এবং ছাত্রশক্তির সভাপতি জিয়া উদ্দিন আয়ান। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন নজরুল হল সংসদের ভিপি রাকিবুল ইসলাম, জিএস আলী আহম্মদসহ হল সংসদ ও প্রশাসনের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
অনুষ্ঠানে জাকসুর জিএস মাজহারুল ইসলাম বলেন, “৫৫ ব্যাচ যে পরিমাণ নবীনবরণ এ বছর পাচ্ছে, বিগত ব্যাচগুলোর আসলে ঈর্ষান্বিত হওয়ার মতোই। হল সংসদ তাদের যে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যাচ্ছে, সেটা অবশ্যই একটি কৃতিত্বের দাবিদার এবং ৫৫ ব্যাচের জন্য এটা একটা বড় সৌভাগ্য। জাকসুর পূর্ণাঙ্গ সফলতা পেতে আরেকটি জাকসুর দরকার। এই জাকসুর সফলতা ৬০ শতাংশ হলে পরের জাকসুর ৮০ শতাংশ, পরের জাকসুতে ১০০ শতাংশ হবে। জাকসুর কার্যক্রম দেখার জন্য আসলে ইতিবাচক মানসিকতা বেশি জরুরি। জাকসুর সবচেয়ে বড় সফলতা হলো, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একজন শিক্ষার্থী ক্লাস থেকে নিরাপদে হলে থাকতে পারে, কোনো প্রকার গণরুম-গেস্টরুম সংস্কৃতিতে তাকে যেতে হয় না, কোনো প্রকার রাজনৈতিক কর্মসূচিতে তাকে যেতে হয় না। নিজের হলে নিজের মতো থাকতে পারছি। শার্টের হাতা ঝুলিয়ে রাখা বা গুটিয়ে রাখা, রাতের বেলা কোথায় যেতে পারব, কোথায় যেতে পারব না—এমন কোনো রেগুলেশন সেট করার মতো কেউ কর্তৃত্বের জায়গায় তৈরি হতে পারবে না।”
জাকসুর ভিপি আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি পরিপূর্ণ, স্বয়ংসম্পূর্ণ ও আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে পরিচিত করা হলেও বিভিন্ন সময়ে ক্যাম্পাসে নানা ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত সংস্কৃতি গড়ে উঠেছিল। জাকসু, হল সংসদ ও ক্যাম্পাসের ক্রিয়াশীল ছাত্রসংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এসব অপসংস্কৃতি থেকে ক্যাম্পাসকে অনেকটাই মুক্ত করা সম্ভব হয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।
৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের স্বাগত জানিয়ে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছে। অল্প সময়ের মধ্যেই ৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা মুক্তমঞ্চে যে অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে, তা প্রশংসনীয়। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ব্যাচ তাদের সুনাম ও অর্জন ধরে রাখবে।
তিনি আরও বলেন, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়েছে দীর্ঘ সংগ্রামের ইতিহাস ও স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ভবিষ্যতে ক্যাম্পাসে কোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী বা অপসংস্কৃতি ফিরে এলে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদেরই তার বিরুদ্ধে দাঁড়াতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এই সংগ্রামী ঐতিহ্য ও চেতনাকে কখনো বিস্মৃত না হওয়ার জন্য তিনি নবীন শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানান।
৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে জিতু বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনে শুধু একাডেমিক শিক্ষাই নয়, ক্যাম্পাসের সংস্কৃতি, ইতিহাস ও মূল্যবোধ সম্পর্কে ধারণা অর্জন করাও গুরুত্বপূর্ণ। যে লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নিয়ে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছেন, তা সফলভাবে বাস্তবায়ন করে গৌরবের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ করবেন—এমন প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।
এ সময় প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আব্দুর রাজ্জাক তাঁর বক্তব্যে অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষক, প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি, জাকসুর নেতৃবৃন্দ, হল সংসদের সদস্য, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ধন্যবাদ জানান। বিশেষ করে ৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ হিসেবে উল্লেখ করে তিনি তাদের অংশগ্রহণের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, অনুষ্ঠানের সাফল্যের পেছনে হল সংসদ ও হলের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্তরিক পরিশ্রম রয়েছে। পাশাপাশি ৪৮ ও ৪৯তম ব্যাচের প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের অভিনন্দন জানিয়ে তিনি আশা প্রকাশ করেন, হলের শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নিয়ে হলের সুনাম ও ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখবে।
৫৫তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে প্রাধ্যক্ষ বলেন, তাঁদের মাধ্যমে হলের গৌরবময় ঐতিহ্য ও সুনাম আরও সমৃদ্ধ হবে—এটাই তাঁর প্রত্যাশা। বক্তব্যের শেষে তিনি অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান।



















