সারাদেশ

রামপালে জরাজীর্ণ দুই কাঠের পুলে ঝুঁকিপূর্ণ পারাপার, স্থায়ী সেতুর দাবি

  প্রতিনিধি 21 September 2026 , 5:08:31 প্রিন্ট সংস্করণ

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার দুটি গুরুত্বপূর্ণ কাঠের পুল দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় থাকায় প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন কয়েক হাজার মানুষ। স্থানীয়দের দাবি, বারবার সংস্কারের পরিবর্তে সেখানে দ্রুত টেকসই স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা হোক।

বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার বাইনতলা ইউনিয়নের দাউনখালি শাখা নদীর ওপর নির্মিত একটি এবং সকুরহাট এলাকার আরেকটি কাঠের পুল দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সরেজমিনে দেখা গেছে, পুল দুটির অধিকাংশ কাঠের তক্তা পুরোনো হয়ে বিভিন্ন স্থানে ভেঙে গেছে। নিচের খুঁটিগুলোও নড়বড়ে হয়ে পড়েছে। ফলে হালকা যানবাহন চলাচল ও একাধিক মানুষের একসঙ্গে পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। মাঝে মধ্যেই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনাও।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. রাসেল, নজু শেখ, ধ্রুব পাল, আব্দুর কাদের, জিন্নাত খান ও শেখ এনামুল কবির জানান, প্রায় সাত থেকে আট বছর ধরে সগুনা ও সকুরহাটের কাঠের পুল দুটি নষ্ট অবস্থায় রয়েছে। ঝুঁকি নিয়েই তাদের চলাচল করতে হয়। রামপাল, চিতলমারী, বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, মোল্লাহাট, শরণখোলাসহ ৮/৯টি উপজেলার মানুষের যাতায়াতের জন্য পুল দুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মাঝেমধ্যে পুল ভেঙে গেলে গ্রামবাসী চাঁদা তুলে তা মেরামত করেছেন বলেও জানান তারা।

স্থানীয়দের ভাষ্য, নদী খননের সময় পূর্বের কালভার্ট ভেঙে যাওয়ার পর সেখানে আর নতুন কোনো স্থায়ী কাঠামো নির্মাণ করা হয়নি। পরে চলাচলের সুবিধায় কাঠের পুল নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন ধরে উপজেলা প্রশাসন বা সরকারের কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। তাদের দাবি, প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ হাজার মানুষের যাতায়াতের কথা বিবেচনায় নিয়ে জরুরিভাবে কাঠের পুলের পরিবর্তে স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন।

হাওলাদার শহিদুল ও উকিল উদ্দিন শেখ বলেন, সকুরহাটের কাঠের পুলটি কিছুদিন আগে সংস্কার করা হলেও অল্প সময়ের মধ্যেই আবার খুঁটি ও তক্তা ভেঙে যায়। পরে পুনরায় সংস্কার করা হলেও এর স্থায়িত্ব নিয়ে শঙ্কা রয়েছে। তাদের মতে, সংস্কারে ব্যয় করা অর্থ দিয়ে নতুন একটি কাঠের পুল নির্মাণ করা সম্ভব ছিল। তারা বিষয়টি প্রতিমন্ত্রীর জোরালো দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মো. সাদ্দাম হোসাইন কালবেলাকে বলেন, কাঠের পুল দুটি দীর্ঘদিন ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে এবং এতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ বাড়ছে। ইতোমধ্যে সরেজমিনে পরিদর্শন করে মেজারমেন্ট সম্পন্ন করা হয়েছে এবং নতুন প্রকল্পের (ডিপিপি) জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। অনুমোদন পাওয়া গেলে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরও খবর

Sponsered content