দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের স্বার্থে সবাইকে সতর্ক ও ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাবের আবদুস সালাম মিলনায়তনে ১২ দলীয় জোট আয়োজিত ‘দেশের চলমান সংকট ও দেশপ্রেমিক শক্তির করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্র রক্ষায় যারা কাজ করছেন, তাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ রক্ষার অঙ্গীকার নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে।
তিনি বলেন, ‘বিরোধী দল কথা বলবে, পার্লামেন্টে কথা বলবে, বাইরেও কথা বলবে এবং কর্মসূচি দেবে। কিন্তু অলীক কোনো বিষয় বা অহেতুক কোনো বিষয়, যার সঙ্গে বাস্তবতার কোনো সম্পর্ক নেই, তা নিয়ে অতিরিক্ত হৈচৈ করা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেয় না।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, ভিন্নমত থাকবে এবং সমালোচনাও থাকবে। তবে সেই সমালোচনা গঠনমূলক হতে হবে, তা যেন অপপ্রচার বা কারও বিরুদ্ধে কলঙ্ক লেপনের উদ্দেশ্যে না হয়।
দেশের গ্যাস, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মাত্র ছয় মাস আগে দায়িত্ব নেওয়া সরকার এ সংকটের জন্য দায়ী নয়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রভাব দেশের জ্বালানি ব্যবস্থায় পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘এটার জন্য তারেক রহমানের সরকার দায়ী নন। এটি বৈশ্বিক সংকট।’
সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির কথা তুলে ধরে রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিভিন্ন কার্ডের মাধ্যমে প্রান্তিক, অসহায়, গরিব ও দরিদ্র মানুষ সুবিধা পাচ্ছেন। তিনি জানান, বয়স্ক ভাতা ৬০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করা হয়েছে এবং উপকারভোগীর সংখ্যা ৬১ লাখ থেকে আরও এক লাখ বাড়ানো হয়েছে।
তিনি বলেন, এসব উদ্যোগ সামাজিক সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ এবং সরকার ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতার কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে রিজভী বলেন, স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে দেশে ভয়াবহ খাদ্য সংকট তৈরি হয়েছিল। জিয়াউর রহমান গণমুখী কর্মসূচির মাধ্যমে বাংলাদেশকে শুধু খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেননি, খাদ্য রপ্তানির উদ্যোগও নিয়েছিলেন।
বর্তমান সরকারের জনকল্যাণমূলক কর্মসূচির বিষয়ে তিনি বলেন, এসব কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত করতে কোনো ধরনের চক্রান্ত হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে হবে।
কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগের ঝটিকা মিছিল প্রসঙ্গে রুহুল কবির রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ অতীতে যে কর্মকাণ্ড করেছে, তাতে তাদের রক্তপিপাসু আচরণ প্রকাশ পেয়েছে। প্রাইমারি স্কুল, হাইস্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, রিকশাচালক, শ্রমিকসহ সাধারণ মানুষকে তারা দিনে-দুপুরে হত্যা করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
এ সময় আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান ও জাতীয় পার্টি কাজী জাফরের চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার। এ ছাড়া ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ ও জাতীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন।



















