প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) তিন প্রজন্মের নেতৃত্বের মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করেছে। প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান ও সাবেক চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার পর এখন দলের নেতৃত্বে রয়েছেন চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হাত ধরে যাত্রা শুরু করে বিএনপি। তাঁর মৃত্যুর পর কঠিন সময়ে দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন বেগম খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি তিনি সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নেন এবং ১৯৮৪ সালে চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। প্রায় ৪১ বছর দলের সর্বোচ্চ নেতৃত্বে থাকার পর ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর তিনি মারা যান। পরে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি দলের স্থায়ী কমিটির বৈঠকে তারেক রহমানকে চেয়ারম্যান ঘোষণা করা হয়। এর আগে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যাওয়ার আগে খালেদা জিয়া তাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, প্রতিষ্ঠার ৪৮ বছরে নানা রাজনৈতিক সংকট অতিক্রম করেও দলটি বারবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে। ২০০১ সালের পর চতুর্থবারের মতো রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসে এবার সরকার গঠনের ছয় মাস পর প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। তাদের মতে, এ সময়ে সংগঠনকে আরও গতিশীল করা, তরুণদের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করা এবং সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা ধরে রাখাই দলের প্রধান অগ্রাধিকার। একই সঙ্গে তেল-গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আওয়ামী লীগের আমলে গুম-খুনের বিচার, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, সংবিধান সংশোধন, বিরোধী দলের আন্দোলন এবং চব্বিশের গণহত্যার বিচার—এসব বিষয়ও সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর এবারই প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালন করছে বিএনপি। দলটির নেতাকর্মীদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীসহ বিভিন্ন কর্মসূচিতে খালেদা জিয়ার উপস্থিতি তাদের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস ছিল। এখন তার অনুপস্থিতিতে সেই আবেগ থাকলেও নেতৃত্বে রয়েছেন তারেক রহমান। তাদের দাবি, সাধারণ জীবনযাপন ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে এবং তরুণদের মধ্যেও বিএনপির প্রতি আগ্রহ সৃষ্টি হচ্ছে। [তথ্য যাচাই প্রয়োজন]
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সময় যেমন মেধাবী তরুণরা বিএনপির রাজনীতিতে যুক্ত হয়েছিলেন, তেমনি বর্তমানেও নতুন প্রজন্মের অংশগ্রহণ বাড়ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে ভবিষ্যতে আরও বেশি মেধাবী তরুণ বিএনপির রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হবেন।
বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল বলেন, জিয়াউর রহমানের ১৯ দফা, খালেদা জিয়ার ভিশন-২০৩০ এবং বিএনপির ৩১ দফার সমন্বয়ে দলের ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা তৈরি হয়েছে এবং নির্বাচনি ইশতেহারের মাধ্যমে তা বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়েছে। তবে গ্যাস-বিদ্যুৎ সরবরাহ, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনগণের প্রত্যাশার বিভিন্ন বিষয় পূরণে আরও মনোযোগ প্রয়োজন বলে তিনি মন্তব্য করেন। পাশাপাশি তিনি বলেন, গণতন্ত্রের প্রশ্নে খালেদা জিয়ার আদর্শ এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বকে সামনে রেখে শুধু স্লোগান নয়, কার্যকর কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে। তরুণদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে তিনি জানান, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’সহ বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হলেও সাংগঠনিক প্রক্রিয়ায় নতুন প্রজন্মকে যুক্ত করার কাজ এখনো চলমান।



















