Saturday , 29 August 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য খেলা
  2. অপরাধ
  3. অস্ট্রেলিয়া (ওশেনিয়া) মহাদেশ
  4. অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আফ্রিকা মহাদেশ
  8. আবহাওয়া
  9. ইউরোপ মহাদেশ
  10. উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
  11. এক্সপ্লেইনার
  12. এশিয়া মহাদেশ
  13. কৃষি
  14. ক্যাম্পাস
  15. ক্রিকেট

গুম দিবসে সামনে এলো জোরপূর্বক গুমের অন্ধকার অধ্যায়

আন্তর্জাতিক জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশে গুমের অভিযোগ, তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান, আইনি সংস্কার এবং বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভুক্তভোগীদের পরিবার এখনো সত্য উদ্ঘাটন, ন্যায়বিচার ও দায়ীদের বিচারের দাবি জানিয়ে আসছে।

আন্তর্জাতিক জোরপূর্বক গুমের শিকার ব্যক্তিদের দিবস, যা ‘গুম দিবস’ নামে পরিচিত, প্রতি বছর ৩০ আগস্ট পালিত হয়। ভুক্তভোগীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো, তাদের পরিবারের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং জোরপূর্বক গুম ও গোপন আটকের বিরুদ্ধে বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দিবসটি পালন করা হয়। বাংলাদেশে এবার দিবসটি পালিত হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন দেশজুড়ে অতীতের গুমের অভিযোগ, তদন্ত এবং বিচার প্রক্রিয়া নতুন করে গুরুত্ব পাচ্ছে।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার জোরপূর্বক গুম বিষয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করে। কমিশনের ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে প্রকাশিত চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, মোট ১ হাজার ৯১৩টি অভিযোগের মধ্যে যাচাই-বাছাই শেষে ১ হাজার ৫৬৯টি ঘটনাকে জোরপূর্বক গুম হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ২৮৭টি ঘটনায় নিখোঁজ ব্যক্তিদের মৃত বলে ধারণা করা হয়েছে। কমিশনের মতে, প্রকৃত সংখ্যা ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার পর্যন্ত হতে পারে, কারণ অনেক পরিবার অভিযোগই করেনি।

কমিশন তাদের তদন্তে জোরপূর্বক গুমকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে উল্লেখ করেছে এবং তৎকালীন সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়ার দাবি করেছে। তদন্তে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলী, চৌধুরী আলম, সালাহউদ্দিন আহমদ, হুম্মাম কাদের চৌধুরী, জামায়াত নেতা আবদুল্লাহিল আমান আজমি, ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম এবং সাবেক রাষ্ট্রদূত মারুফ জামানের নিখোঁজ হওয়ার ঘটনাসহ বেশ কয়েকটি আলোচিত মামলা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

কমিশনের প্রতিবেদনে কথিত গোপন আটককেন্দ্র ‘আয়নাঘর’-এর বিষয়টিও উঠে এসেছে। এতে বলা হয়, গোপন আটককেন্দ্র পরিচালনা এবং খণ্ডিতভাবে অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে দায় নির্ধারণ কঠিন করে তোলার একটি পদ্ধতির প্রমাণ মিলেছে। একই সময়ে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সাল থেকে বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের সংগঠনগুলো ৭০৮টি কথিত জোরপূর্বক গুমের ঘটনা নথিভুক্ত করেছে এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের বিরুদ্ধে ২০০-র বেশি কথিত গুমে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।

চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, জীবিত ফিরে আসা ভুক্তভোগীদের ৭৫ শতাংশ ছিলেন জামায়াত-শিবিরের নেতা বা কর্মী এবং ২২ শতাংশ বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত। অন্যদিকে, এখনো নিখোঁজ রয়েছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্যে ৬৮ শতাংশ বিএনপি এবং ২২ শতাংশ জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। কমিশনের মতে, এসব তথ্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন বা নিষ্ক্রিয় করার অভিযোগকে আরও জোরালো করেছে। তবে সাবেক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ রাষ্ট্রীয়ভাবে জোরপূর্বক গুমের কোনো নীতি পরিচালনার অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করেছে।

এদিকে ভুক্তভোগীদের পরিবারের সংগঠন ‘মায়ের ডাক’ দীর্ঘদিন ধরে সত্য উদ্ঘাটন ও জবাবদিহির দাবি জানিয়ে আসছে। ২০২৪ সালের ২৯ আগস্ট বাংলাদেশ ‘জোরপূর্বক গুম থেকে সকল ব্যক্তির সুরক্ষার জন্য আন্তর্জাতিক কনভেনশন’ অনুমোদন করে। পরে অন্তর্বর্তী সরকার ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ অনুমোদন করে এবং বর্তমানে ‘জোরপূর্বক গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত গ্রহণ শেষে মন্ত্রিসভার চূড়ান্ত অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। খসড়া আইনে তদন্ত, বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, সাক্ষী সুরক্ষা, ক্ষতিপূরণ, জাতীয় তথ্যভাণ্ডার এবং গোপন আটককেন্দ্রকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

গুম দিবস উপলক্ষে আলোচনায় উঠে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবারের প্রধান দাবি শুধু ক্ষতিপূরণ বা স্বীকৃতি নয়; তারা জানতে চান তাদের স্বজনদের কী হয়েছিল এবং দায়ীদের বিচার নিশ্চিত হোক। তদন্ত কমিশনের অনুসন্ধান, চলমান ট্রাইব্যুনাল কার্যক্রম এবং প্রস্তাবিত আইনকে জোরপূর্বক গুমের অভিযোগ মোকাবিলায় বাংলাদেশের নতুন উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত, যথাযথ বিচারিক প্রক্রিয়া এবং ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সর্বশেষ - লাইফস্টাইল

আপনার জন্য নির্বাচিত

দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা, হতে পারে অতি ভারী বর্ষণও

প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি নিয়ে বৈঠক

জামালপুরের তিন আসনে ১২ প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল

বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষুধার্ত জনগোষ্ঠীর দুই-তৃতীয়াংশ মাত্র ১০টি দেশে : জাতিসংঘ প্রতিবেদন

প্রেমের সম্পর্ক ঘিরে রক্তাক্ত পরিণতি, নিহত ১

তনু হত্যা মামলায় ১০ বছর পর আসামি গ্রেফতার

কুয়াকাটায় সাংবাদিক তুহিন হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা

শরিক দলের শীর্ষ নেতাদের যমুনায় আমন্ত্রণ জানালেন প্রধানমন্ত্রী

ধূমপান ও তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ কার্যকর, ই-সিগারেটসহ সব উদীয়মান তামাকপণ্য নিষিদ্ধ

জাজিরায় পদ্মার ভাঙন, নিঃস্ব হচ্ছেন শত শত মানুষ