নাটোরের গুরুদাসপুরে দুই শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির সময় পুলিশের ওপর হামলার মামলায় আরও ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
নাটোরের গুরুদাসপুরে পুলিশের ওপর হামলার মামলায় ৯ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে বিষয়টি নিশ্চিত করেন গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হান্নান। গ্রেপ্তাররা হলেন চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার এলাকার সবুজ প্রাং (২৯), জাহের আলী (৫০) ও হাসান আলী (৫৭), শ্যামপুর স্কুলপাড়া এলাকার রবিউল করিম (৪০) এবং শ্যামপুর বড়ঘাট বাজার এলাকার আশিক আহম্মেদ (২২), নাঈম আলী (১৯), রেজাউল করিম (২৮), আল আমিন (২৭) ও কামরুল ইসলাম (২১)।
ওসি জানান, শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার চন্দ্রপুর ওয়াপদা বাজার ও শ্যামপুর বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে শনিবার দুপুরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত ২৫ আগস্ট বিকেলে উপজেলার শ্যামপুর গ্রামের নন্দকুজা নদীতে গোসল করতে নেমে ফারহান ইসলাম ও লাম ইসলাম নামে দুই শিশুর মৃত্যু হয়। খবর পেয়ে গুরুদাসপুর থানার এসআই আবুল বাশার ও কনস্টেবল আব্দুর রাকিব ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করেন এবং মরদেহ দুটি দাফনের জন্য পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তরের প্রস্তুতি নেন। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে পুলিশের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজিত জনতা পুলিশ সদস্যদের ওপর হামলা চালায়। তাদের লাঠি দিয়ে আঘাত ও মারধর করা হয় এবং স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে খবর পেয়ে অতিরিক্ত পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই সদস্যকে উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় ২৬ আগস্ট দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গুরুদাসপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) এমদাদুল হক বাদী হয়ে সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা করেন। মামলায় ২০ জনের নাম উল্লেখের পাশাপাশি অজ্ঞাতনামা আরও ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়। ওই মামলার ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দিবাগত রাতে অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
ওসি মো. আব্দুল হান্নান বলেন, এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে অভিযানের নামে কোনো সাধারণ বা নির্দোষ মানুষকে হয়রানি করা হবে না।


















