জয়পুরহাটের কালাই উপজেলায় যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের অভিযোগে মাছুদা বেগম নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাঁর স্বামী মেহেদী হাসান ওরফে শাপলাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, কালাই উপজেলার হারুঞ্জা শাহাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মেহেদী হাসানের সঙ্গে প্রায় ২০ বছর আগে ক্ষেতলাল উপজেলার দাশড়া গ্রামের মাছুদা বেগমের বিয়ে হয়। তাদের ১২ বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। মাছুদার ভাই বছির উদ্দিনের দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিয়ের পর থেকেই মেহেদী বিভিন্ন সময় যৌতুক দাবি করে আসছিলেন এবং তা না পেয়ে স্ত্রীকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করতেন।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, গত ১৪ আগস্ট বেলা ১১টার দিকে যৌতুকের দাবিতে মাছুদার হাত-পা বেঁধে ঘরের ভেতরে উচ্চ শব্দে গান বাজানো হয়। পরে প্লায়ার্স দিয়ে তাঁর মুখে আঘাত করলে দুটি দাঁত ভেঙে যায়। এছাড়া গরম কাস্তে দিয়ে তাঁর হাত ও পায়ে ছ্যাঁকা দেওয়ারও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, একপর্যায়ে মাছুদা অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে ঘরের ভেতরে রেখে বাইরে থেকে দরজা বন্ধ করে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি জানতে পেরে তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে জয়পুরহাট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরদিন উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে সাত দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
মামলার বাদী বছির উদ্দিন বলেন, তাঁর বোন ২০ শতক জমি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিলেন। সেই জমি বিক্রির জন্য মেহেদী হাসান চাপ দিচ্ছিলেন। পরে তাঁকে এক লাখ টাকা দেওয়া হলেও আরও পাঁচ লাখ টাকা যৌতুক দাবি করা হয়। সেই টাকা না দেওয়ায় মাছুদাকে নির্যাতন করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি এবং ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
কালাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, আদালতের নির্দেশে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলাটি নথিভুক্ত করা হয়েছে। শুক্রবার রাতেই অভিযুক্ত মেহেদী হাসান ওরফে শাপলাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।



















