Monday , 17 August 2026 | [bangla_date]
  1. অন্যান্য খেলা
  2. অপরাধ
  3. অস্ট্রেলিয়া (ওশেনিয়া) মহাদেশ
  4. অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ
  5. আইন-আদালত
  6. আন্তর্জাতিক
  7. আফ্রিকা মহাদেশ
  8. আবহাওয়া
  9. ইউরোপ মহাদেশ
  10. উত্তর আমেরিকা মহাদেশ
  11. এশিয়া মহাদেশ
  12. কৃষি
  13. ক্যাম্পাস
  14. ক্রিকেট
  15. খেলাধুলা

সেপ্টেম্বরে রূপপুর থেকে জাতীয় গ্রিডে মিলবে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ

সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোলে আগামী সেপ্টেম্বরে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলকভাবে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ শুরু হতে পারে। প্রাথমিকভাবে এ ইউনিট থেকে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে বর্তমানে শেষ পর্যায়ের কারিগরি পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রথম ইউনিটের চুল্লিতে ইতোমধ্যে ইউরেনিয়াম জ্বালানি প্রবেশ করানো হয়েছে এবং দুই ধাপে শতাধিক পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। অবশিষ্ট পরীক্ষাগুলোও পর্যায়ক্রমে শেষ করা হচ্ছে। প্রতিটি ধাপ যাচাই-বাছাই শেষে অনুমোদন দিচ্ছে বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ। পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহ সফল হলে পরবর্তী কয়েক মাসের মধ্যেই ইউনিটটি পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্যিক উৎপাদনে যাবে।

গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে সংকট ও বাড়তি লোডশেডিংয়ের প্রেক্ষাপটে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হিসেবে দেখা হচ্ছে। একবার চালু হলে কেন্দ্রটি ২৪ ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে পারবে। একটি ইউনিটে একবার জ্বালানি লোড করার পর প্রায় ১৮ মাস বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে। এরপর নতুন জ্বালানি সংযোজনের জন্য ইউনিটটি সর্বোচ্চ প্রায় দুই মাস বন্ধ থাকতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ বলেন, ‘নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে উৎপাদিত বিদ্যুৎ অন্য বিদ্যুতের তুলনায় অনেক বেশি নির্ভুল ও স্থিতিশীল গ্রিডের মাধ্যমে সরবরাহ করতে হয়। তাই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যে জাতীয় গ্রিড যুক্ত হবে, সেটির সক্ষমতা যথেষ্ট শক্তিশালী হতে হবে। গ্রিডে যাতে সামান্যতম সমস্যাও না হয় এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালনে কোনো বাধা না আসে, সে জন্য পিডিবি, পিজিসিবিসহ সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে কাজ করছে সরকার।’

রূপপুরের বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য বাঘাবাড়ী ২৩০ কেভি, বগুড়া ৪০০ কেভি এবং গোপালগঞ্জের একটি ৪০০ কেভি অবকাঠামো প্রস্তুতের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বেশিরভাগ অবকাঠামোর কমিশনিং শেষ হলেও পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সঞ্চালনের জন্য আরও কিছু প্রস্তুতি প্রয়োজন। বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, ‘নিউক্লিয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের দ্রুতগতির বিদ্যুৎ উৎপাদনের সঙ্গে জাতীয় গ্রিডের সিস্টেম এখনও পুরোপুরি সমন্বয় করার মতো সক্ষম নয়। এই সমন্বয় ঠিকভাবে না হলে যেকোনো সময় দেশের বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারে।’ তিনি জানান, এ কারণে বিদেশি বিশেষজ্ঞ ও পরামর্শকদের সহায়তায় প্রয়োজনীয় আপগ্রেডেশন ও প্রস্তুতির কাজ চলছে।

এদিকে রূপপুরের বিদ্যুতের চূড়ান্ত ইউনিট মূল্য এখনও নির্ধারণ হয়নি। পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরুর পর পিডিবির সঙ্গে আলাদা বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি হবে। প্রকল্পের শুরুতে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের সম্ভাব্য মূল্য ৩ থেকে ৪ টাকা বলা হলেও প্রকল্প ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় সেই হিসাব পরিবর্তিত হয়েছে। অন্যদিকে সিপিডির গবেষণা পরিচালক ড. খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, রাশিয়ার সঙ্গে আর্থিক লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞার কারণে কিছু অর্থ পরিশোধে জটিলতা তৈরি হয়েছে। ফলে প্রকল্পের কিছু কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগোচ্ছে কি না, সে বিষয়েও এখনও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাচ্ছে না।

সর্বশেষ - আইন-আদালত

আপনার জন্য নির্বাচিত