জাপানের রাজধানী টোকিওর তামা জুলজিক্যাল পার্কে সন্দেহজনক হিটস্ট্রোকে তিনটি সিংহীর মৃত্যু হয়েছে। অতিরিক্ত তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার কারণে আরও কয়েকটি সিংহ অসুস্থ হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার পার্কের এক মুখপাত্র জানান, চলমান তীব্র গরম ও অস্বাভাবিক আর্দ্রতা সিংহগুলোর জন্য বড় ধরনের চাপ তৈরি করছে। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, জুলাইয়ের মাঝামাঝি থেকে তামা জুলজিক্যাল পার্কের ১৬টি সিংহের মধ্যে ১০টির ক্ষুধামন্দা ও অবসাদের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। এরপর ধাপে ধাপে তিনটি সিংহীর মৃত্যু হয়। এর মধ্যে একটি সিংহী ২৮ জুলাই, আরেকটি ৩১ জুলাই এবং তৃতীয়টি ২ আগস্ট মারা যায়।
পার্কের এক মুখপাত্র জানান, পশুচিকিৎসকদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে মৃত সিংহীদের শরীরে তীব্র পানিশূন্যতা ও একাধিক অঙ্গ বিকল হওয়ার লক্ষণ পাওয়া গেছে। এসব কারণে হিটস্ট্রোককে মৃত্যুর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে মৃত্যুর চূড়ান্ত কারণ নিশ্চিত করতে আরও পরীক্ষার ফলাফলের অপেক্ষা করা হচ্ছে।
মুখপাত্রের ভাষ্য, সিংহ সাধারণত গরম আবহাওয়া সহ্য করতে পারলেও জাপানের গ্রীষ্মের উচ্চ আর্দ্রতা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। আফ্রিকার তুলনামূলক শুষ্ক গরমের সঙ্গে জাপানের আর্দ্র গরমের পার্থক্য রয়েছে। এ কারণে প্রাণীদের অতিরিক্ত তাপ থেকে সুরক্ষায় চিড়িয়াখানায় বিভিন্ন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জুলাইয়ের মাঝামাঝি টোকিওসহ কান্তো অঞ্চলের বর্ষাকাল শেষ হওয়ার পর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়তে শুরু করে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় চিড়িয়াখানায় পানি ছিটানো, বায়ু চলাচল বাড়ানো এবং অসুস্থ প্রাণীদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে অসুস্থ সিংহগুলোর চিকিৎসা চলছে।
জাপানে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তীব্র গরমের প্রবণতা বেড়েছে। ২০২৫ সালে দেশটিতে রেকর্ড উচ্চ তাপমাত্রা দেখা যায়। চলতি বছরও দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছেছে। ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার বেশি তাপমাত্রার দিনগুলোকে জাপানে নতুন করে ‘কোকুশোবি’ বা ‘অত্যন্ত ভয়াবহ গরমের দিন’ হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
জাপানের ফায়ার অ্যান্ড ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, ২০ থেকে ২৬ জুলাই পর্যন্ত এক সপ্তাহে হিটস্ট্রোকের উপসর্গ নিয়ে ১৮ হাজার ৫৯১ জনকে জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে ৪৫ জনের মৃত্যুও রেকর্ড করা হয়েছে।
জাপানে প্রতিবছর গরমজনিত কারণে প্রায় ১ হাজার ৩০০ মানুষের মৃত্যু হয়। এই সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে অর্ধেকে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়েছে দেশটির সরকার।
বিজ্ঞানীদের মতে, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে জাপানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে চরম তাপপ্রবাহ আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন ও তীব্র হয়ে উঠছে।
জাপানে সর্বোচ্চ তাপমাত্রার জাতীয় রেকর্ডটি হয় ২০২৫ সালের ৫ আগস্ট। ওই দিন টোকিওর উত্তরের গুনমা প্রিফেকচারের ইসেসাকি শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়।
তীব্র গরমের প্রভাব শুধু মানুষ ও প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। গরম মোকাবিলায় জাপানে বিভিন্ন আয়োজনের সময়সূচি নিয়েও পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এর উদাহরণ নাগোয়ার ওয়ার্ল্ড কসপ্লে সামিট। ২০২৬ সালের ৩১ জুলাই থেকে ২ আগস্ট পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এবারের আয়োজনটি ছিল গ্রীষ্মকালে অনুষ্ঠিত এর শেষ আসর। ২০২৭ সাল থেকে অনুষ্ঠানটি নভেম্বর মাসে আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে।



















