খুলনায় মেসে নিয়ম না মেনে ভাত খাওয়াকে কেন্দ্র করে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। নিহত শিক্ষার্থীর নাম মো. আজমল হোসেন (২২)। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
নিহত আজমল হোসেন নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তার বাড়ি চুয়াডাঙ্গার দর্শনার বড় সলুয়া গ্রামে। তার বাবার নাম মো. কুতুব উদ্দিন।
স্বজনদের দাবি, শুক্রবার রাতে খুলনার ইসলাম নগর এলাকায় আকিবের বাড়িতে ভাড়া নেওয়া একটি মেসে ছিলেন আজমল। মেসের নিয়ম অনুযায়ী, খাবার খাওয়ার আগে দায়িত্বপ্রাপ্তদের জানাতে হতো। কিন্তু ওই রাতে বিষয়টি না জানিয়ে অন্য একজনের খাবার খাওয়ায় মেসের সদস্যদের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি হয়।
একপর্যায়ে মেসের কয়েকজন তাকে পাঁচতলা ভবনের ছাদে নিয়ে মারধর করেন এবং মাথার চুল কেটে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ছাদ থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন আজমল। তাকে উদ্ধার করে খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
আজমলের বাবা জানান, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ছেলে ফোন করে জানায়, কাউকে না বলে ভাত খাওয়ার ঘটনায় তাকে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং টাকা চুরির অভিযোগও তোলা হয়েছে। পরে মেসের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলিয়ে দিলে তারা তার কাছে ১ লাখ টাকা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। বিষয়টি সমাধানের আশ্বাস দিয়ে তিনি তাদের শান্ত করার চেষ্টা করেন।
মেসের রান্নার দায়িত্বে থাকা নারী জানান, তিনি রান্না করে খাবার দিয়ে আসতেন এবং মেসের সদস্যরা তা খেতেন। তার ভাষ্য, আজমল সেদিন কাউকে না জানিয়েই খাবার খেয়েছিলেন। পরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে ভাত চুরি, টাকা চুরি, মোবাইল ফোন ও ল্যাপটপ চুরির অভিযোগে তাকে মারধর করা হয়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
হরিণটানা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইকবাল হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পিটিয়ে হত্যার সত্যতা পাওয়া গেছে। ছাদে মারধরের কাজে ব্যবহৃত একটি লাঠি জব্দ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আজমলের বাবার কাছে ফোন করে টাকা দাবি করার বিষয়টি তদন্তে ফোনের সিডিআর আবেদন করা হয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
আজমলের মৃত্যুকে রহস্যজনক উল্লেখ করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে নর্থ ওয়েস্টার্ন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।



















