নাচোল (চাঁপাইনবাবগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
আষাঢ় মাস প্রায় শেষ হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলায় এখনো পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়নি। দীর্ঘস্থায়ী অনাবৃষ্টি ও খরার কারণে রোপা আমন ধানের আবাদ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বীজতলা শুকিয়ে যাওয়া, জমি চাষে বাধা এবং সেচ ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগে দিন কাটছে বরেন্দ্র অঞ্চলের হাজারো কৃষকের।
মাঠ পর্যায়ে দেখা গেছে, পর্যাপ্ত বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষকের তৈরি করা আমন ধানের বীজতলা শুকিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। প্রখর রোদে চারাগুলো দুর্বল হয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে জমিতে কাদা না থাকায় হালচাষ ও চারা রোপণের প্রস্তুতিও ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে আমনের আবাদ সম্পন্ন করা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
বৃষ্টির অভাবে অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে সেচ দিচ্ছেন। তবে এতে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাচ্ছে। এমনিতেই বরেন্দ্র অঞ্চলে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে থাকায় অতিরিক্ত সেচের ওপর নির্ভরতা ভবিষ্যতে আরও সংকট তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এলাইপুর গ্রামের কৃষক মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, “অনেক কষ্ট করে আমনের বীজতলা তৈরি করেছি। কিন্তু বৃষ্টি না হওয়ায় চারাগুলো রোদের তাপে শুকিয়ে যাচ্ছে। আর কয়েকদিন এমন অবস্থা থাকলে সব চারা নষ্ট হয়ে যাবে। তখন নতুন করে বীজ বপনেরও সুযোগ থাকবে না।”
একই গ্রামের কৃষক মো. জালাল উদ্দিন বলেন, “আষাঢ় মাস শেষ হতে চললেও মাঠে কাদা করার মতো বৃষ্টিই হলো না। এতে আমন চাষ নিয়ে বড় দুশ্চিন্তায় আছি।”
আরেক কৃষক মো. আজিজুর রহমান বলেন, “বরেন্দ্র এলাকায় এমনিতেই পানির সংকট রয়েছে। আষাঢ়েও যদি বৃষ্টি না হয়, তাহলে কৃষিকাজ চালানো কঠিন হয়ে পড়বে। প্রতিদিনই দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় কাটছে।”
এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, বৃষ্টিপাত স্বাভাবিকের তুলনায় কম হলেও কৃষকদের হতাশ হওয়ার কারণ নেই। খরিফ-২ মৌসুমে রোপা আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সরকারের পক্ষ থেকে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে উন্নত জাতের ধানবীজ ও রাসায়নিক সার বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অতিরিক্ত চাপ না দিয়ে ফিতা পাইপের মাধ্যমে সম্পূরক সেচ দিয়ে বীজতলা সংরক্ষণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, নাচোল উপজেলায় আগামী কয়েক দিনের মধ্যে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই আশাতেই এখন আকাশের দিকে তাকিয়ে অপেক্ষা করছেন উপজেলার হাজারো কৃষক।



















