ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষ বিদায়ের দ্বিতীয় দিনের আনুষ্ঠানিকতায় রোববার তার জানাজা হয়েছে। এতে ইরানের শীর্ষ নেতারা অংশ নিলেও খামেনির ছেলে ও উত্তরসূরি মোজতবা খামেনির অনুপস্থিতি সবার নজর কাড়ে।
আলি খামেনি ১৯৮৯ সাল থেকে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ছিলেন। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইল যুদ্ধের প্রথম দিন বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সে তিনি নিহত হন।
তেহরান থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।
রোববারের আয়োজনে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর প্রধান আহমাদ বাহিদিসহ শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন। একই সঙ্গে তেহরানে লাখো মানুষ শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।
তবে মার্চের শুরুতে সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনি জনসমক্ষে আসেননি। যে হামলায় তার বাবা নিহত হন, তাতে তিনিও আহত হন বলে জানা গেছে।
প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতার অন্য তিন ছেলে মাসুদ, মোস্তফা ও মেইসাম জানাজায় উপস্থিত ছিলেন।
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় জানাজা হয়। এতে ইমামতি করেন বিশিষ্ট শিয়া আলেম জাফর সোবহানি। ৯৭ বছর বয়সী এই আলেম পবিত্র শহর কোমের ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে পাঠদান করেন।
রোববার ইরানজুড়ে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়। দিনের শেষ দিকে গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে খামেনির মরদেহ সরিয়ে নেওয়া হবে। সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকযাত্রার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে সেখানে তার মরদেহ রাখা হয়েছে।
এএফপির সাংবাদিকরা জানান, রোববার সকালে বিশাল ধর্মীয় কমপ্লেক্স এবং আশপাশের সড়ক শোকার্ত মানুষের ভিড়ে পরিপূর্ণ হয়ে যায়।
তাপমাত্রা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস থাকায় গ্র্যান্ড মোসাল্লার দিকে যাওয়া অনেককে খাবার ও পানীয় দেওয়া হয়। তাদের কেউ ইরানের জাতীয় পতাকা, আবার কেউ প্রয়াত খামেনির প্রতিকৃতি বহন করছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাজধানীর এসব আনুষ্ঠানিকতায় ১ কোটির বেশি মানুষ অংশ নেবেন বলে তারা আশা করছেন।
রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। অতিরিক্ত ভিড়ের কারণে পদদলিত হওয়ার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক করেছে সরকারি গণমাধ্যম।
ইরানের সরকারি বার্তা সংস্থা ইরনা রোববার জানায়, ‘তেহরানের মোসাল্লা এবং এর আশপাশের চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোতে ৮ হাজারের বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা নিয়েছেন।’ তবে কোনো মৃত্যুর ঘটনা ঘটেনি।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ফুটেজে পার্লামেন্ট স্পিকার এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় ইরানের প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাকের গালিবাফ’কে জানাজায় অংশ নিতে দেখা যায়।
এছাড়া ইসলামিক রেভ্যুলশনারি গার্ড কর্পস-এর বিদেশবিষয়ক শাখা কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানি উপস্থিত ছিলেন।
ইরানের জাতীয় পতাকায় মোড়ানো এবং তার কালো পাগড়ি রাখা খামেনির কফিনের পাশে ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় নিহত তার পরিবারের আরো চার সদস্যের কফিন রাখা হয়। তাদের মধ্যে তার এক শিশু নাতনিও ছিল।



















