নাটোরের গুরুদাসপুরে ঝাউপাড়া দাখিল মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনির বিরুদ্ধে অনুমোদন ছাড়া ভবন বিক্রি, অর্থ আত্মসাৎসহ বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত শুরু করেছে।
অভিযোগ রয়েছে, কোনো সরকারি অনুমোদন ছাড়াই মাদ্রাসার ৯০ ফিট সেমিপাকা ভবন, ৪৫ ফিট টিনশেড এবং অন্য একটি ভবনের একাংশ বিক্রির নামে জালিয়াতি করে আত্মসাৎ করেছেন আব্দুল গনি। এসব স্থাপনা মাত্র ৬০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, শিক্ষকদের সঙ্গে অসদাচরণ, টিউশন ফি আত্মসাৎ, শিক্ষকদের উচ্চতর স্কেলের ফাইল আটকে রাখা এবং চেক জালিয়াতিসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। প্রশাসনিক নিয়মনীতি উপেক্ষা করে নিজস্ব নিয়মে প্রতিষ্ঠান পরিচালনার অভিযোগও করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এ বিষয়ে গত ২২ জুলাই ইউএনও ও মাদ্রাসার সভাপতি ফাহমিদা আফরোজের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। অভিযোগের পর সম্প্রতি ইউএনও এবং উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আকতার সরেজমিনে মাদ্রাসা পরিদর্শন করেন।
অভিযোগে বলা হয়, চলতি বছরের জানুয়ারিতে পূর্ববর্তী কমিটির রেজুলেশনের অজুহাত দেখিয়ে ভবন ও স্থাপনা বিক্রি করা হলেও এর পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে পারেননি ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি। এছাড়া মাদ্রাসার ৩৭ শতাংশ ফসলি জমি সাড়ে ৫ লাখ টাকায় কট রাখা, সোয়া ৮ শতাংশ লিচু বাগান ৩৮ হাজার টাকায় লিজ দেওয়া এবং মাঠের আরও সাড়ে ১৯ শতাংশ জমি লিজ দিয়ে পাওয়া অর্থের কোনো হিসাবও তিনি দেখাতে পারেননি বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আব্দুল গনির নিজস্ব নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও ত্রুটির অভিযোগ রয়েছে। ১৯৯৫ সালের ১২ জুলাই এক নিয়োগপত্রের মাধ্যমে তাকে একই সঙ্গে ‘সহসুপার’ ও ‘সিনিয়র মৌলভি’ পদে নিয়োগ দেওয়া হয়, যা বিধিবহির্ভূত বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া শিক্ষাজীবনে একাধিক তৃতীয় বিভাগ থাকলেও তিনি চাকরিতে বহাল রয়েছেন।
অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে তিনি ইবতেদায়ি শাখার কনিষ্ঠ মাওলানা মাহফুজুর রহমানকে বিধি লঙ্ঘন করে দাখিল শাখায় জ্যেষ্ঠ মাওলানা পদে পদায়ন করেন। পরে তাকে শারীরিক শিক্ষা শিক্ষক হিসেবে সরকারি বেতন-ভাতা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়, যদিও ওই পদে আগে থেকেই একজন এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মরত ছিলেন।
সাবেক অ্যাডহক কমিটির সভাপতি সেলিম রেজা বলেন, তার মেয়াদকালে ভবন বিক্রি বা জমি লিজ দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। এর দায়ভার পুরোপুরি সুপারের।
তবে ভারপ্রাপ্ত সুপার আব্দুল গনি দাবি করেন, তিনি যা করেছেন তা প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই করেছেন। নতুন ভবন পাওয়ার কারণেই পুরোনো ভবন ভাঙা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সেলিম আক্তার জানান, পরিদর্শনে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় ভারপ্রাপ্ত সুপারকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
ইউএনও ফাহমিদা আফরোজ বলেন, অনিয়মের কারণে তাকে শোকজ করা হয়েছে এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে জবাব দিতে বলা হয়েছে। জবাব পর্যালোচনার পর পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















