অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত প্রতিবেদনেই প্রকৃত তথ্য উঠে আসবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, দুর্নীতি যে-ই করুক, দলীয় পরিচয় বিবেচনা না করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সম্প্রতি একটি টেলিভিশন চ্যানেলে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মীর শাহে আলম বলেন, আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া যে চ্যালেঞ্জ করেছেন, তার জবাব তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। তিনি কী করেছেন, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। শপথ নেওয়া একজন মন্ত্রী হিসেবে কোনো চ্যালেঞ্জের মুখে গোপনীয় নথি জনসমক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এর আগে সচিবের অনুপস্থিতিতে বিভিন্ন বিলে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া সই করেছিলেন বলে দাবি করেছিলেন মীর শাহে আলম। এ বক্তব্যের পর আসিফ মাহমুদ তাকে চ্যালেঞ্জ জানান। এ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেন, তদন্ত প্রতিবেদনেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে যারা অন্যায়, অপরাধ বা জনগণের অর্থ আত্মসাৎ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজন হলে চাকরিচ্যুতি, মামলা এবং আদালতের মাধ্যমে শাস্তির ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে একজন অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে একটি কমিটি কাজ করছে বলেও জানান মীর শাহে আলম। প্রথমে কমিটিকে তিন মাস সময় দেওয়া হলেও কাজ শেষ না হওয়ায় আরও দুই মাস সময় বাড়ানো হয়েছে। তার ভাষ্য, এই তদন্ত প্রতিবেদনেই মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র উঠে আসবে।
তিনি আরও দাবি করেন, পিরোজপুরে প্রায় ৬ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের মধ্যে ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকার কোনো কাজ না করেই টেন্ডার সম্পন্ন করে ট্রেজারি থেকে বিল উত্তোলন করা হয়েছে। এ ঘটনায় দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তদন্ত করছে এবং কয়েকটি মামলার আসামিরা পলাতক রয়েছেন।
রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে কিছু ঠিকাদারের আধিপত্য এবং উন্নয়নকাজে প্রতিবন্ধকতার বিষয়েও সরকার নজর রাখছে বলে জানান মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, পাবলিক প্রকিউরমেন্টের নিয়ম ও সংশ্লিষ্ট অর্ডিন্যান্স (পিপিআর) সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে যোগ্য ব্যবসায়ী, ঠিকাদার ও সরবরাহকারীরা স্বচ্ছভাবে সরকারি কাজে অংশ নিতে পারেন। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাস্তার কাজের মান নিয়ে অভিযোগ উঠলে তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে কার্পেটিংয়ের পর প্রয়োজনীয় সময় না দিয়ে কাজের মান বিচার না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, প্রকৌশলগত বিষয়গুলো বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে জেনে মূল্যায়ন করা উচিত। তার দাবি, বর্তমান সময়ে উন্নয়নকাজের গুণগত মান আগের তুলনায় উন্নত হয়েছে এবং ভবিষ্যতে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে সরেজমিনে এসব কাজ পরিদর্শনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।



















