এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে ব্রোঞ্জ পদক জয়ের সুযোগ হারিয়েছে বাংলাদেশ। নাগোয়ায় চলমান গেমসে পদকের খুব কাছে গিয়েও প্রথমবারের মতো হতাশ হতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
নাগোয়ার করোগি স্পোর্টস পার্কে অনুষ্ঠিত ম্যাচে টসে জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় পাকিস্তান। অধিনায়ক ফাতিমা সানার ৩০ বলে ৪৫ রানের ইনিংসে ভর করে দলটি নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৪৫ রান সংগ্রহ করে। উইকেটরক্ষক-ব্যাটার গুল ফিরোজাও ২৩ বলে ৬টি চারে ৩১ রান করেন। বাংলাদেশের হয়ে নাহিদা, স্বর্ণা ও রিতু মনি দুটি করে উইকেট নেন।
১৪৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশের ব্যাটিং শুরু থেকেই ছন্দহীন ছিল। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১১৪ রান তুলতে সক্ষম হয় দল। শারমিন আক্তার ৪৫ বলে ৪৬ রানে অপরাজিত থাকেন, যেখানে ছিল ৪টি চার। অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি ৩০ বলে ২৫ রান করেন। পাকিস্তানের উম্মে হানি ১০ রানে ৩টি উইকেট শিকার করেন।
বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে বড় কোনো জুটি গড়ে ওঠেনি। পাওয়ার প্লেতে দলটি মাত্র ২৫ রান তুলে ৩ উইকেট হারায়। ১১.৩ ওভারে আসে দলের ৫০ রান, আর শতরান পূর্ণ হয় ১৮.৪ ওভারে। ম্যাচ শেষে দলের কোচ সারোয়ার ইমরান বলেন, পরাজয়ের অন্যতম কারণ পাওয়ার প্লেতে অন্তত ২০ থেকে ২৫ রান কম হওয়া।
কোচ সারোয়ার ইমরান আরও বলেন, ‘দলের মানসিক সমস্যা এই মুহূর্তে বড় হয়ে দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে এশিয়া কাপে শ্রীলংকার কাছে হারের পর থেকে বাংলাদেশ যে আত্মবিশ্বাস হারিয়েছে তা ফিরিয়ে আনা জরুরী। এশিয়ান গেমসে চায়নার বিপক্ষে বৃষ্টির কারনে প্রথম ম্যাচটি খেলতে না পারায় দল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সব মিলিয়ে পদকের খুব কাছাকাছি গিয়েও তা হাতছাড়া হওয়ায় পুরো দল হতাশ।’
এই জয়ের মাধ্যমে ১২ বছর পর এশিয়ান গেমসে আবারও পদক জিতল পাকিস্তান নারী ক্রিকেট দল। সর্বশেষ ২০১৪ সালে ইনচন এশিয়ান গেমসে তারা স্বর্ণপদক জিতেছিল। অন্যদিকে ২০২২ সালের হাংজু এশিয়ান গেমসে পাকিস্তানকে হারিয়ে ব্রোঞ্জ জিতেছিল বাংলাদেশ। এদিন নারী ক্রিকেটে পদক হাতছাড়া হলেও বিকেলে কাবাডিতে জাপানকে হারাতে পারলে বাংলাদেশের পুরুষ দল সেমিফাইনাল নিশ্চিত করার পাশাপাশি অন্তত ব্রোঞ্জ পদক নিশ্চিত করার সুযোগ পাবে।



















