শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদ ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি, অর্থ আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একইসঙ্গে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে পৃথক আরেকটি মামলা করা হয়েছে।
আজ দুদক প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের সচিব মো. সাইদুর রহমান খান এসব তথ্য জানান। দুদক জানায়, ফয়সাল করিম মাসুদ, মিডল্যান্ড ব্যাংকের রূপনগর উপশাখার এক্সিকিউটিভ অফিসার মো. সফিকুল ইসলাম, একই শাখার রিলেশনশিপ অফিসার মো. সারোয়ার হোসেন এবং ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তি তৈরি করে দুটি কোম্পানিকে জয়েন্ট ভেঞ্চারে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলে টেন্ডার সিকিউরিটি হিসেবে ৯৫ লাখ ৬৯ হাজার টাকার পে-অর্ডার গ্রহণ করেন। পরে জাল ও বানোয়াট ট্রেড লাইসেন্স ব্যবহার করে এবং অসাধু ব্যাংক কর্মকর্তাদের সহায়তায় সরকারি প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যক্তিমালিকানাধীন ব্যাংক হিসাব খুলে ওই অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জাল টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ‘ইনডিড ক্লাউড বিডি’র হিসাব থেকে অর্থ প্রথমে ফয়সালের মালিকানাধীন ‘এপল সফট আইটি’র হিসাবে এবং পরে তার নিজস্ব এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তী সময়ে ওই অর্থ ফয়সালের স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের বেনারশী-পল্লী উপশাখায় এফডিআর করা হয়।
এ ঘটনায় দণ্ডবিধি, ১৮৬০-এর ৪০৬, ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১ ও ১০৯ ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
অন্যদিকে, ফয়সাল করিম মাসুদের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৫৮ হাজার ৫০৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলে রাখার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় পৃথক মামলা করেছে দুদক।
এছাড়া, তার স্ত্রী শাহেদা পারভীন সামিয়ার বিরুদ্ধে ৬৫ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে একই আইনের ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী দাখিলের আদেশ জারির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।



















