প্রচ্ছদ » সারাদেশ » বিক্রি হওয়া ১১ মাসের শিশু ফিরল মায়ের কোলে
বিক্রি হওয়া ১১ মাসের শিশু ফিরল মায়ের কোলে
প্রতিনিধি
21 September 2026 , 6:51:41প্রিন্ট
সংস্করণ
গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ১১ মাস বয়সী শিশু ফাতেমা আক্তার জান্নাত। মাদকের টাকা জোগাতে বাবা হামিদুল মিয়া শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করেছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রায় দুই মাস নিখোঁজ থাকার পর শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ঘটনার তদন্তে প্রথমে সাদুল্লাপুর উপজেলার সারবাজার এলাকা থেকে রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার পর হামিদুল মিয়াকে আটক করা হয়। পুলিশ তাকে এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে জড়িত আরও দুজনকে আটক করা হয়।
রোববার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের ছোট ওমরপুর এলাকায় শ্বশুরবাড়ি থেকে বাসের হেলপার মজিদকে আটক করা হয়। এরপর গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার মদনের পাড়া এলাকা থেকে মোছা. মোরশেদাকে আটক করা হয়। সবশেষে মদনের পাড়া ছলের মোড় এলাকায় সোলেমান চৌকিদারের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এর আগে স্বজন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাই মাসে হামিদুল মিয়া ও রুমান আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই মাদক সেবন করে রুমানাকে মারধর করতেন হামিদুল। নির্যাতনের কারণে সন্তান জন্মের কিছুদিন পর রুমানা শিশুকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
শিশুটির মা রুমানা আক্তারের ভাষ্য, গত ১৭ জুলাই বিকেলে গাইবান্ধা পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় তার বাবার বাড়িতে আসেন হামিদুল। ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে বের হন তিনি। এরপর আর ফিরে আসেননি। দুই দিন পর ফোন করে শিশুকে ফেরত দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন হামিদুল। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকিও দেন। পরে জানা যায়, শিশুটিকে ৩১ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে।
সন্তান নিখোঁজ হওয়ার পর রুমানা থানা ও আদালতের শরণাপন্ন হন। সে সময় তিনি বলেছিলেন, ‘আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। আমার সন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে- কিছুই জানি না।’
শিশুকে ফিরে পেয়ে রুমানা বলেন, ‘কালবেলাতে সংবাদ প্রচার ও পুলিশের সহযোগিতায় আমার সন্তানটি পেয়েছি। ধন্যবাদ সবাইকে, আমি অনেক খুশি এখন। আর কিছু লাগবে না আমার।’
গাইবান্ধা জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোত্তালিব সরকার বলেন, কালবেলাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ায় সংবাদ প্রচারের পর পুলিশ সুপারের নির্দেশনায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আমরা সফল, মায়ের কোলে সন্তানটি ফিরিয়ে দিতে পেরেছি।