নড়াইল সদর উপজেলার কলোড়া ইউনিয়নের বাহির গ্রামে বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লেগে একটি গোয়ালঘর পুড়ে গেছে। এতে একটি গরু মারা গেছে, আহত হয়েছে আরও তিনটি গরু ও একটি ছাগল। গবাদিপশু হারিয়ে চরম বিপাকে পড়েছে পরিবারটি।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে পারভিন বেগম ও ওবায়দুল গাজী দম্পতির গোয়ালঘরে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিনের কষ্টে লালন-পালন করা গরুগুলোই ছিল তাদের পরিবারের একমাত্র বড় সম্পদ।
পারভিন বেগম বলেন, ‘স্বামী ভ্যান চালায়, ছলডা কৃষি কাজ করে। কত কষ্ট করে ঘর-সংসার করতিছি। ছেলে-মেয়ে মানুষ করিছি। রাতে শুয়ে রইছি। উঠে দেহি গোয়ালঘরে আগুন। তাড়াতাড়ি এসে গরুর দড়ি কাইটে বের করিছি। একটা মরে গেছে, তিনটে গরু আর একটি ছাগলের অবস্থাও খারাপ।’
তিনি জানান, আগুন নেভানোর চেষ্টা করতে গিয়ে তারাও আহত হয়েছেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে পারভিন বলেন, ‘একটু সোজা হয়ে যহন দাঁড়াইছি, তহন মাথায় বাড়ি (আঘাত), আগুন আমার কষ্টের ফসল এমন করে কাড়ি নিলু। আগুনে আমরা নিজেরাও পুড়ে অসুস্থ হয়ে পড়িছি। মরে যাইনি, তা-ই ধন্য।’
পারভিন আরও বলেন, ‘মারা যাওয়া গরুটা, চার মাস গাভিন ছিল। আশি হাজার টাকা দাম হইল। সমিতি থেকে লোন নিয়ে গরুগুলো কিনিলাম। এখন সব শেষ হয়ে গেল। ভাবছিলাম সমিতির টাকা শোধ হলেই গরু বেচে ঘর করব। আমার সব শেষ হয়ে গেল।’
পরিবারটির দাবি, আগুনে গোয়ালঘর, গরু ও অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি মিলিয়ে প্রায় তিন লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তারা জানান, দুই বছর আগে দুটি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) থেকে ঋণ নিয়ে গোয়ালঘর তৈরি করে গরু কিনেছিলেন। পরিকল্পনা ছিল গরু বিক্রি করে ঋণ পরিশোধ ও ভাঙা ঘর মেরামত করার।
ওবায়দুল গাজী বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ, ভ্যান চালাই। একটা গরুর দাম ৮০ হাজার টাকা। সেই গরুটা মারা গেছে। অন্য গরুগুলো বাঁচবে কী মরবে, জানি না। একটা ছাগল ছিল তাও আগুনে পুড়ে অসুস্থ। আমি নিঃস্ব হয়ে গিছি। সরকারের কাছে আমার আবেদন আমাকে যেন আর্থিক সহায়তা করা হয়।’



















