ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে আরও ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠন করা হলেও কোনো কমিটির সভাপতির পদ বিরোধী দলকে না দেওয়ায় সংসদে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এর প্রতিবাদে বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য অধিবেশন কক্ষ ত্যাগ করেন, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে ওয়াকআউট ঘোষণা করা হয়নি।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) রাতে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে নতুন ১০টি সংসদীয় স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব পাস হয়। বর্তমানে সংসদে মোট ৫০টি সংসদীয় কমিটির মধ্যে ২৫টি গঠন সম্পন্ন হয়েছে, যার ১৯টি মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত। বিরোধী দলের দাবি, জুলাই জাতীয় সনদের প্রস্তাব অনুযায়ী আসনসংখ্যার অনুপাতে তাদের ১৪টি কমিটির সভাপতি হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত শুধু সরকারি হিসাব-সম্পর্কিত কমিটির সভাপতির পদ পেয়েছে তারা।
কমিটির সভাপতি পদ বণ্টন নিয়ে অধিবেশনে সরকারি ও বিরোধী দলের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক হয়। চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম ১০টি স্থায়ী কমিটি গঠনের প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা পাস হয়। তবে কোনো কমিটিতেই বিরোধী দলের সদস্যকে সভাপতি করা হয়নি। এরপর পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেন, সরকারি দলের আচরণের কারণে সংসদে থাকার আগ্রহ বিরোধী দলের কমে যাচ্ছে। তিনি দাবি করেন, আসনসংখ্যার অনুপাতে সদস্য মনোনয়নের মতো সভাপতি পদেও ২৬ শতাংশ অংশীদারত্ব পাওয়ার বিষয়ে তারা প্রত্যাশা করেছিলেন এবং এ নিয়ে আগে আলোচনা হয়েছিল।
তাহের বলেন, কার্যপ্রণালিবিধিতে সভাপতি কোন দল থেকে কতজন হবেন, সে বিষয়ে বাধ্যবাধকতা নেই; বিষয়টি পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়ার কথা। তার অভিযোগ, দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে সরকারি দল নিজেদের সিদ্ধান্ত সংসদে চাপিয়ে দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ইচ্ছাই যদি সংসদের সিদ্ধান্ত হয়ে যায়, তবে তা স্বৈরাচারী প্রবণতার পরিচায়ক। একই সঙ্গে ভবিষ্যতেও একই পরিস্থিতি চলতে থাকলে বিরোধী দল সংসদে নাও থাকতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
তাহেরের বক্তব্যের পর বিরোধী দলের অধিকাংশ সদস্য সংসদ কক্ষ ত্যাগ করেন। তবে এনসিপির হাসনাত আবদুল্লাহসহ কয়েকজন সদস্য কক্ষে অবস্থান করেন। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিরোধী দলের আসনসংখ্যা অনুযায়ী সভাপতি পদ দেওয়ার কোনো সাংবিধানিক বা আইনগত বাধ্যবাধকতা নেই এবং অতীতেও এমন নজির ছিল না। তিনি আরও বলেন, বিরোধী দলকে ১০টি সভাপতির পদ দেওয়ার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জুলাই জাতীয় সনদ রাজনৈতিক সমঝোতার একটি দলিল এবং সংবিধান সংশোধনের পর সংসদীয় কমিটিগুলো পুনর্গঠন করা হলে আসনসংখ্যার অনুপাতে বিরোধী দলকে সভাপতির পদ দেওয়ার বিষয়ে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ রয়েছে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন এবং সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের সহযোগিতা না পাওয়ায় বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।



















