পাবনার চাটমোহরে একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বহিরাগতদের হামলা ও প্রধান শিক্ষককে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুইজন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ।
সোমবার (৩১ আগস্ট) দুপুরে উপজেলার শ্রীদাসখালি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং তারা ভয়ে ছোটাছুটি শুরু করে। আহত জিয়ারুল ইসলাম ও সোহাগ ইসলামকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সরকারি বিধি অনুযায়ী বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি পদে জাহাঙ্গীর আলমকে এবং কয়েকজন সদস্যকে মনোনীত করে অনুমোদনের জন্য শিক্ষা অফিসে পাঠান। বিষয়টি নিয়ে শ্রীদাসখালি গ্রামের আব্দুল মালেক ও তার চাচাতো ভাই আবু সাঈদ (পূর্বের সভাপতি) আপত্তি জানান।
অভিযোগ রয়েছে, আব্দুল মালেককে সভাপতি করার জন্য প্রধান শিক্ষককে চাপ দেওয়া হয়। তবে সরকারি নীতিমালার বাইরে যেতে রাজি না হওয়ায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ দিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেন তারা। ওই অভিযোগের তদন্তে সোমবার সহকারী শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম ও আসলাম উদ্দিন বিদ্যালয়ে যান।
প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, দুই সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তার উপস্থিতিতেই আব্দুল মালেক ও আবু সাঈদের নেতৃত্বে শতাধিক বহিরাগত বিদ্যালয়ে হামলা চালায়। তারা তাকে অফিস কক্ষ থেকে টেনে বের করে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এ সময় বাধা দিতে গেলে স্থানীয় দুই ব্যক্তি আহত হন।
তিনি বলেন, ‘ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে তারা দীর্ঘদিন ধরে আমাকে হুমকি-ধমকি দিয়ে আসছিল। সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করেই কমিটির প্রস্তাব জমা দিয়েছি। একজন শিক্ষক হয়ে আব্দুল মালেক কীভাবে বহিরাগত লোকজন এনে হামলা করতে পারেন, তার বিচার চাই।’
ঘটনার সময় উপস্থিত সহকারী শিক্ষা অফিসার শরিফুল ইসলাম বলেন, ‘অভিযোগের তদন্তে আমরা দুইজন কর্মকর্তা বিদ্যালয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু সেখানে সংঘবদ্ধ হয়ে লোকজন এসে হামলা করবে এবং প্রধান শিক্ষককে মারধর করবে, তা ভাবিনি। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
অভিযুক্ত আব্দুল মালেক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। আমি দাতা সদস্য থেকে বাদ পড়েছি। প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে দেওয়া অভিযোগের তদন্তে কাগজপত্র দেখাতে গিয়েছিলাম। এই ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আব্দুল গণি বলেন, ‘বিদ্যালয়ে হামলা ও কর্মকর্তাদের সামনে প্রধান শিক্ষককে মারধরের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) অলিউর রহমান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তর বা ভুক্তভোগী প্রধান শিক্ষক এখনো কোনো অভিযোগ দেননি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















