ঢাকার আশুলিয়ায় এক ব্যবসায়ীর জমি দখলের চেষ্টা, ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি এবং তার শোরুমে হামলা চালিয়ে নগদ অর্থ লুটের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্রের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় আশুলিয়া থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী।
গত ২৯ আগস্ট রাতে আশুলিয়ার বাসাইড এলাকার একটি শোরুমে এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগকারী ব্যবসায়ী মো. ফয়সাল (৩৩) জানান, অভিযুক্তরা হলেন স্থানীয় সুমন (৩৬), কাওছার (৩৪), জয় (৩০), সোহেল (২৮), শাহীন (২৮), জুনি (৩৩) এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জন। অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে এর আগেও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে আশুলিয়া থানায় মামলা রয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, মো. ফয়সাল ও তার অংশীদার শাহ আলম বাসাইড মৌজার বিআরএস-৮১২৫ ও ৮১২৭ নম্বর দাগের ১৩ শতাংশ জমি বায়নামূলে দখল নিয়ে সেখানে সাইনবোর্ড স্থাপন করেন। ওমরাহ পালন শেষে গত ১৯ আগস্ট দেশে ফেরার পর থেকে অভিযুক্তরা ওই জমি নিয়ে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে এবং টাকা না দিলে জমিতে যেতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ২৯ আগস্ট রাত আনুমানিক ৯টার দিকে অভিযুক্তরা আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার শোরুমে ঢুকে হামলা চালায়। এ সময় তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং একপর্যায়ে সুমন ও জয় তার বুকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দেয়। একই সময় কাওছার শোরুমের ক্যাশবাক্স থেকে নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। পরে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা মোটরসাইকেলে পালিয়ে যায়।
মো. ফয়সাল বলেন, কয়েক মাস ধরে স্থানীয় একটি চক্র তার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিল। সর্বশেষ ১০ লাখ টাকা দাবি করে জানানো হয়, টাকা না দিলে তিনি তার বায়নাকৃত জমিতে যেতে পারবেন না। তিনি আরও বলেন, হামলার সময় তাকে মারধর করে আহত করা হয় এবং ক্যাশ থেকে আড়াই লাখ টাকা নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে চাঁদার টাকা না দিলে প্রাণে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়। এ ঘটনায় তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং দোষীদের বিচার ও নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সুমন বলেন, তারা কয়েকজন ফয়সালের শোরুমে গিয়েছিলেন এবং সেখানে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। তবে কোনো টাকা নেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
আশুলিয়া থানার কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



















