রংপুরের মাছুয়াপাড়ায় চার খুনের ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার পর পার্থ দাসকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। তবে তিনি দাবি করেছেন, ডিবি কার্যালয়ে তাকে কোনো শারীরিক নির্যাতন করা হয়নি; বাড়ি থেকে নিয়ে আসার সময় ধস্তাধস্তিতে পায়ে আঘাত লাগে।
রংপুর নগরের মাছুয়াপাড়ায় অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, তার স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী ও ছেলে প্রিয়ম চক্রবর্তীর মরদেহ উদ্ধারের পর পরিবারের সদস্য পার্থ দাসকে নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এ ঘটনায় তার ছোট ভাই সিদ্ধার্থ দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে পার্থ দাস ও তার বাবা বিনয় দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মাছুয়াপাড়ার নিজ বাড়ি থেকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। প্রায় ছয় ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা ডিবি কার্যালয় থেকে বের হন। পরে পুলিশ জানায়, তাদের কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
ডিবি কার্যালয় থেকে বের হওয়ার সময় পার্থ দাসকে খুঁড়িয়ে হাঁটতে দেখা যায়। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘ডিবি অফিসে আমাকে কোনো শারীরিক আঘাত করা হয়নি। যখন ধরে নিয়ে আসে তখন আমি বিভিন্নভাবে ধরা না দেওয়ার চেষ্টা করি। এ সময় আমার পায়ে আঘাত লাগে। এ কারণে আমি খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটি। আমাকে বিভিন্ন ধরনের প্রশ্ন জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। কোনো ধরনের টর্চার করা হয়নি।’
অন্য একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া বক্তব্যে পার্থ দাস বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে কিছু হয়নি, সুন্দর ব্যবহার করেছে। আমি বাড়িতে ভয়ে ছোটাছুটি করেছি, সে কারণে পায়ে কোমরে আঘাত লেগেছে। এ জন্য খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে হাঁটছি।’ তিনি জানান, ডিবি কার্যালয়ে তাকে হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
পুলিশও জানিয়েছে, পার্থ দাসকে ডিবি কার্যালয়ে নেওয়ার সময় কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। পুলিশের দাবি, বাড়ি থেকে নিয়ে আসার সময় তিনি দৌড়াদৌড়ি করেন এবং পুলিশ সদস্যদের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে খাটের কোনায় আঘাত পান। এ সময় তার পায়ে চোট লাগে।
রংপুর মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (গোয়েন্দা) সনাতন চক্রবর্তী জানান, মামলার তদন্তের স্বার্থে পার্থ দাস ও তার বাবা বিনয় দাসকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এর আগে একাধিকবার ফোন ও গোয়েন্দা সদস্যদের মাধ্যমে তাদের ডিবি কার্যালয়ে আসতে বলা হলেও তারা আসেননি। পরে পুলিশ তাদের নিয়ে আসে।



















