চাঁপাইনবাবগঞ্জে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে যুক্ত হয়ে গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা বাড়তি আয় করছেন। চলতি মৌসুমে পাটের ভালো ফলন ও দাম পাওয়ায় কৃষকদের পাশাপাশি এসব নারীর মুখেও স্বস্তির হাসি ফুটেছে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলার মাঠ, বিল, নদী, খাল, ডোবা ও জলাশয়ে ভোর থেকে বিকেল পর্যন্ত নারী-পুরুষকে পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাচ্ছে। পরিবারভিত্তিকভাবে এ কাজে অংশ নেওয়ায় গ্রামীণ জনপদে এখন কর্মচাঞ্চল্য বেড়েছে।
মঙ্গলবার সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, পানিতে জাগ দেওয়া পাটগাছ থেকে কৃষক-কৃষানীরা আঁশ ছাড়াচ্ছেন। কেউ পানিতে দাঁড়িয়ে আঁশ ছাড়াচ্ছেন, আবার কেউ আঁশ ধুয়ে রোদে শুকানোর জন্য বাঁশের খুঁটিতে বিছিয়ে দিচ্ছেন। এ কাজে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও সমানভাবে অংশ নিচ্ছেন।
জেলার নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেক নারী পাটের আঁশ ছাড়ানো ও শুকানোর কাজ করে আয় করছেন। কেউ নগদ পারিশ্রমিকের পরিবর্তে পাটখড়ি নিচ্ছেন, পরে তা শুকিয়ে হাট বা পাইকারের কাছে বিক্রি করছেন। কয়েকজন নারী জানান, প্রতিদিন পাটের আঁশ ছাড়িয়ে তারা ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা মূল্যের সমপরিমাণ পাটখড়ি পান।
গতকাল সোমবার ও মঙ্গলবার সদর উপজেলার আলাতুলি, নারানপুর, রানিহাটি এবং শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা, দুর্লভপুর, উজিরপুর, মনাকশাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে, নিম্নবিত্ত পরিবারের অনেক গৃহিণী দলবেঁধে কৃষকের পাটগাছ থেকে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন।
সদর উপজেলার আলাতুলি ইউনিয়নের জাহানা বেগম বলেন, পাট মৌসুমে পাট ছাড়ানোর কাজ করে তিনি প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা আয় করেন।
শিবগঞ্জ উপজেলার দুর্লভপুর ইউনিয়নের আনোয়ারা বেগম (৫০) জানান, প্রতিবছর এ সময় এক মাস পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ততা সবচেয়ে বেশি থাকে। তিনি বলেন, প্রতিদিন তিনি ২৫ থেকে ৩০ আঁটি পাট ছাড়াতে পারেন। ২৫ থেকে ৩০ আঁটি পাটগাছ থেকে প্রায় ২ মণ পাটখড়ি হয়। প্রতিমণ পাটখড়ি বাজারে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি করেন। এতে প্রতিদিন তার আয় হয় প্রায় ১ হাজার টাকা।
পাঁকা ইউনিয়নের পাট চাষি আইনাল হক বাসসকে বলেন, প্রতিবছরের তুলনায় এ বছর পাটের ফলন ও দাম ভালো। তিনি তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছেন। গত পাঁচ দিন ধরে ১০ থেকে ১২ জন নারী তার জমির পাটের আঁশ ছাড়ানোর কাজ করছেন। তারা এ কাজের বিনিময়ে প্রতিদিন ১ হাজার টাকা সমমূল্যের পাটখড়ি পান।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. আতিকুল ইসলাম বাসসকে বলেন, গ্রামের নিম্নবিত্ত পরিবারের নারীরা পাট মৌসুমে আঁশ ছাড়ানোর কাজ করে অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। এ কাজের মাধ্যমে তারা আর্থিকভাবে সচ্ছল হচ্ছেন।
তিনি আরও বলেন, এ বছর আবহাওয়া পাট চাষের জন্য অনুকূলে ছিল। ফলে পাটের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দিয়েছেন।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে জেলায় পাট আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২০৪০ হেক্টর। তবে কৃষকদের আগ্রহে ২৭২৭ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও বেশি।



















