আদি ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রাকে কেন্দ্র করে নির্মিত নাটক নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে শুরু হয়েছে ‘ঢাকা নাট্যোৎসব’। রোববার রাজধানীর সূত্রাপুরে জহির রায়হান সাংস্কৃতিক কেন্দ্র মিলনায়তনে উৎসবের উদ্বোধন করা হয়।
ডিএসসিসির ‘হৃদয়ে ঢাকা ৪১৬’ উৎসবের অংশ হিসেবে আয়োজিত এ নাট্যোৎসবের উদ্বোধন করেন সংস্থাটির প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম। উৎসবে বিভিন্ন নাট্যদল আদি ঢাকার ইতিহাস, ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও জীবনযাত্রার নানা দিক নাটকের মাধ্যমে তুলে ধরবে।
নাট্যোৎসবে মঞ্চস্থ হবে মতিউর রহমান রানা নির্দেশিত গ্রন্থিক নাট্যদলের ‘গিরগিটি’, হামিদুর রহমান পাপ্পু নির্দেশিত শৌখিন নাট্যদলের ‘অন্তরালে আয়না’, সূচনা তিসা নির্দেশিত মৈত্রী থিয়েটারের ‘রঙিলা ফানুস’, এস. কে. রতন নির্দেশিত নব নাটের ‘ভেলকি’, খোরশেদুল আলম নির্দেশিত শব্দ নাট্যচর্চা কেন্দ্রের ‘চম্পাবতী’, গোলাম সারোয়ার নির্দেশিত ঢাকা থিয়েটার মঞ্চের ‘ঘরজামাই’, শওকত হাসান নির্দেশিত স্বরবিথী থিয়েটারের ‘শাস্তি’ এবং শুভাশীষ দত্ত তন্ময় নির্দেশিত মেঘদূত নাট্য সম্প্রদায়ের ‘শায়েস্তা খাঁর পরী’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মো. আবদুস সালাম বলেন, সমাজের অবক্ষয় রোধ এবং তরুণ প্রজন্মকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। নাটক, গান, সাহিত্যচর্চা ও খেলাধুলার মাধ্যমে দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করা সম্ভব।
তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের সময় যেমন ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে, যুদ্ধ করি’ গান মানুষের মধ্যে অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল, তেমনি ভালো গান ও সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে। তিনি আরও বলেন, একসময় এলাকায় এলাকায় নাটক হতো, লাইব্রেরি ছিল এবং সাহিত্যচর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকশিত হতো।
ডিএসসিসি প্রশাসক আরও বলেন, ‘এই ঢাকা আমার’—এমন অনুভূতি মানুষের মধ্যে তৈরি হলে নগরকে পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর রাখা সহজ হবে। নিজের ঘরের মতোই নগরের রাস্তাঘাট পরিচ্ছন্ন রাখার মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা-৭ আসনের সংসদ সদস্য হামিদুর রহমান হামিদ। সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. খয়বর রহমান।



















