মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জনকল্যাণমুখী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সরকার বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জনগণের কল্যাণে নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বাস্তবায়ন ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে।
রোববার কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করার পর এক জনসমাবেশে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য একটি কল্যাণমূলক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা এবং সে লক্ষ্য বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ডসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি চালু করা হয়েছে।
সমাবেশে উপস্থিত জনসাধারণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণ যে দলের ওপর আস্থা রেখেছে, সেই আস্থা বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর ভাষায়, বিএনপি অতীতেও জনগণের পাশে ছিল, বর্তমানে রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি আরও বলেন, বিএনপি দেশের জনগণের স্বার্থেই কাজ করবে এবং দেশ ও জনগণের স্বার্থের বাইরে কোনো পদক্ষেপ নেবে না।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগের সরকারের অপরিকল্পিত বিভিন্ন পদক্ষেপ বর্তমান সংকট তৈরিতে ভূমিকা রেখেছে। তিনি জানান, আগামী ২৭ আগস্ট শুরু হতে যাওয়া জাতীয় সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে আগামী ১০ বছরে দেশের বিদ্যুৎ সমস্যা সমাধানের পরিকল্পনা উপস্থাপন করবে সরকার।
বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টার বিরুদ্ধে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, রাজপথে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি হলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় সাধারণ মানুষ। ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। তিনি বলেন, দেশের স্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড ও জনকল্যাণমূলক উদ্যোগে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, দেশের মানুষ এখন শান্তি, আইনের শাসন, কর্মসংস্থান, উন্নত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা চায়। এসব লক্ষ্য অর্জনে ধৈর্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার পাশাপাশি বিশৃঙ্খলাকারীদের বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে পাকুন্দিয়ার মির্জাপুর চেয়ারম্যান বাড়ি ঘাট এলাকায় পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদে মাছের পোনা অবমুক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে তিনি অনুষ্ঠানস্থলের মঞ্চে পৌঁছালে উপস্থিত হাজার হাজার নেতাকর্মী করতালির মাধ্যমে তাঁকে শুভেচ্ছা জানান।



















