নজিরবিহীন তাপপ্রবাহে বিপর্যস্ত দক্ষিণ কোরিয়া। দেশজুড়ে চলমান দাবদাহে এখন পর্যন্ত অন্তত ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। মে মাস থেকে এ পর্যন্ত তাপজনিত বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে দুই হাজারের বেশি মানুষ হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন।
পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় রাজধানী সিউলে ইতিহাসে প্রথমবারের মতো ‘চরম তাপপ্রবাহ সতর্কতা’ জারি করেছে কর্তৃপক্ষ। আবহাওয়াবিদদের মতে, আগামী কয়েক দিনও তীব্র গরম অব্যাহত থাকতে পারে।
গত রোববার দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ইয়াংসান শহরে সর্বোচ্চ ৪২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়। আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ১২২ বছরের ইতিহাসে এটি দক্ষিণ কোরিয়ার সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। বর্তমানে তাপপ্রবাহ দেশের পশ্চিমাঞ্চলের দিকেও বিস্তার লাভ করছে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, সিউলে তাপমাত্রা ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে এবং পরবর্তী কয়েক দিন প্রায় ৩৭ ডিগ্রির কাছাকাছি থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
চলমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রেসিডেন্ট লি জে মিয়ং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে বিদ্যুতের অতিরিক্ত চাহিদা সামাল দেওয়ার পাশাপাশি জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে চরম আবহাওয়া এখন নিয়মিত বাস্তবতায় পরিণত হচ্ছে। তাই দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর সংস্কার জরুরি।
রাজধানী সিউলে তাপপ্রবাহের প্রভাব কমাতে একাধিক বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রায় ৬৩ হাজার ঝুঁকিপূর্ণ নাগরিক—বিশেষ করে প্রবীণ, প্রতিবন্ধী ও দীর্ঘমেয়াদি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। একই সঙ্গে শহরের তাপমাত্রা কমাতে প্রতিদিন প্রায় ২০০টি পানিবাহী যানবাহন বিভিন্ন সড়কে পানি ছিটাচ্ছে। জনবহুল এলাকাগুলোতে কৃত্রিম জলীয় কুয়াশা তৈরির ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে।
উত্তর গিয়ংসাং প্রদেশে ড্রোন ব্যবহার করে লাউডস্পিকারের মাধ্যমে জনগণকে সতর্ক করা হচ্ছে। পাশাপাশি জনসমাগম বেশি হয় এমন স্থানে তাপমাত্রা পর্যবেক্ষণে থার্মাল ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
সোমবার গোরিয়ং শহরে তাপমাত্রা ৪১ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছায়। দেশের আরও কয়েকটি এলাকায় ৪১ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা রেকর্ড হয়েছে। রাজধানী সিউলের গুরো জেলাতেও পারদ প্রায় ৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস স্পর্শ করেছে।
আবহাওয়া বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, কোরীয় উপদ্বীপের ওপর শক্তিশালী উচ্চচাপ বলয়, তীব্র সূর্যতাপ এবং পাহাড় অতিক্রম করে আসা উষ্ণ ও শুষ্ক বাতাসের সম্মিলিত প্রভাবে এই দাবদাহ সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া টাইফুন ‘ডলফিন’-এর গতিপথও আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। টাইফুনটি কোরীয় উপদ্বীপের কাছাকাছি এলে বৃষ্টি ও মেঘের কারণে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে এটি অন্যদিকে সরে গেলে তাপপ্রবাহ আরও তীব্র হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।



















