বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেছেন, আমাদের দেশে বড় সমস্যা যেটা দেখেছি সেটা হলো ব্যবসার প্রসেসগুলো অনেক জটিল। একটা ব্যবসা শুরু করার জন্য এই প্রসেসটাকে আমরা সহজ করে দেব।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে তিন দিনব্যাপী ‘১ম আন্তর্জাতিক ঢাকা ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্যাকেজিং এক্সপো ২০২৬’র উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
খন্দকার আবদুল মুক্তাদির বলেন, আগামী দিনে কি করতে যাচ্ছি, সেটার কিছু ইঙ্গিত আপনাদের দিয়ে যেতে চাই। এটা আমাদের কাজে লাগবে। পুরনো কথা নিয়ে থাকলে তো সামনে আগানো যাবে না।আমাদের বড় সমস্যা যেটা দেখেছি সেটা হলো ব্যবসার প্রসেসগুলি অনেক জটিল। আপনি যদি আজকে একটা ব্যবসা শুরু করতে বিডাতে যান সেটার রেজিস্ট্রেশন করতে ২৫-২৬ টা ভিন্ন ভিন্ন লাইসেন্স পারমিট লাগে।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, একটা ব্যবসা শুরু করার জন্য এই প্রসেসটাকে আমরা সরল করে দেব। আগামীদিন যে কোম্পানিটি বিডাতে যাবে রেজিস্ট্রি করবে। তাকে তার সবগুলো ক্লিয়ারেন্স আমরা একটা প্রভিশনাল ক্লিয়ারেন্সের মাধ্যমে ক্লিরিয়ারেন্স দেব।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের লজিস্টিক ব্যয় বর্তমানে জিডিপির প্রায় ১৬ শতাংশ, যেখানে বৈশ্বিক গড় প্রায় ১০ শতাংশ। বন্দর ব্যবস্থাপনায় দক্ষতার ঘাটতির কারণে পণ্য পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় দেশ পিছিয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি পরিবর্তনে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত বিদেশি অপারেটরদের সম্পৃক্ত করা হচ্ছে।
তিনি জানান, ইতোমধ্যে একটি ডেনিশ কোম্পানি কন্টেইনার টার্মিনাল পরিচালনায় কাজ শুরু করেছে এবং ভবিষ্যতে আরও আন্তর্জাতিক মানের প্রতিষ্ঠানকে বন্দরের বিভিন্ন কার্যক্রমে যুক্ত করা হবে।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের পথে রয়েছে। এই বাস্তবতায় কোনো ‘স্টপ-গ্যাপ’ বা সাময়িক সমাধানের সুযোগ নেই। টেকসই সংস্কার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন করতেই হবে।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, বহু বড় শিল্পকারখানা বছরের পর বছর অলস বা লোকসানি অবস্থায় পড়ে আছে, যা সরকারের ওপর বিপুল ভর্তুকির চাপ সৃষ্টি করছে। শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রায় ৪০টি এবং বস্ত্র ও পাট খাতের অধীনে আরও প্রায় ৫০টি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিপুল ভূমি ও সম্পদকে উৎপাদন ও কর্মসংস্থানের আওতায় আনতে সরকার ধাপে ধাপে বেসরকারি বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে এসব অলস শিল্পপ্রতিষ্ঠানকে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের কেন্দ্রে পরিণত করা। কোথাও আধুনিকায়ন হবে, কোথাও নতুন শিল্প গড়ে উঠবে, আবার কোথাও রপ্তানিমুখী উৎপাদনের সুযোগ তৈরি হবে।’
উদাহরণ হিসেবে তিনি বলেন, দেশের প্রতিটি চিনিকল গড়ে এক হাজার বিঘা বা তার বেশি জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত। এসব স্থানে আধুনিক শিল্প পার্ক বা বহুমুখী শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে তুললে বিপুল বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি সম্ভব হবে।
প্যাকেজিং শিল্পের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক প্যাকেজিং শিল্পের বাজার বিশাল এবং বাংলাদেশকে এই খাতে বড় লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। তিনি উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘ছোট করে চিন্তা করলে বড় জায়গায় পৌঁছানো যায় না। সরকার নীতিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা দেবে, তবে শিল্পের প্রবৃদ্ধি ঘটাতে হবে উদ্যোক্তাদেরই।’
তিনি আরও বলেন, সরকার চায় দেশীয় শিল্প বিকশিত হোক, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হোক, বাংলাদেশের পণ্য আন্তর্জাতিক বাজারে আরও শক্ত অবস্থান তৈরি করুক এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার করুক।
রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস-চেয়ারম্যান ও সিইও মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণে প্যাকেজিং শিল্প একটি গুরুত্বপূর্ণ খাত। আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করতে পারলে নতুন বাজারে প্রবেশ সহজ হবে।’
বাংলাদেশ ফ্লেক্সিবল প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজ অ্যাসোসিয়েশন-এর সভাপতি সাফিউস সামি আলমগীর বলেন, ‘প্যাকেজিং শিল্পের টেকসই উন্নয়নে মাননিয়ন্ত্রণ, পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ও রিসাইক্লিং ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।’
এক্সপোনেট এক্সিবিশন প্রাইভেট লিমিটেড-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাশেদুল হক বলেন, ‘এই এক্সপো উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি সরবরাহকারী ও বিনিয়োগকারীদের মধ্যে সংযোগ তৈরি করবে এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ সৃষ্টি করবে।’
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, দেশে বর্তমানে প্লাস্টিক খাতে ৬ হাজারের বেশি উৎপাদন ইউনিট রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৪৫০টি রপ্তানিমুখী। এ খাত প্রায় ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করেছে এবং দেশীয় চাহিদার ৮০ শতাংশের বেশি পূরণ করছে।



















