মেহেরাব হোসেন, শিবচর (মাদারীপুর) প্রতিনিধি:
বসন্তের বিদায়ঘণ্টা আর গ্রীষ্মের তপ্ত আবাহনের সন্ধিক্ষণে,এক অনন্য সাহিত্যিক আবহে ধ্বনিত হলো মাদকমুক্ত দেশ গড়ার বজ্রশপথ। রাজধানীর কমলাপুরস্থ পল্লীকবি জসীম উদদীনের সেই স্মৃতিধন্য নিভৃত আঙিনায়, যেখানে একসময় বাংলা সাহিত্যের সোঁদা মাটির ঘ্রাণ মিশে থাকত, সেখানেই তারুণ্যের মেধা রক্ষার অঙ্গীকারে সমবেত হয়েছিলেন দেশবরেণ্য গুণীজন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে বক্তৃতা প্রশিক্ষন কেন্দ্র- এর আয়োজনে ‘মাদকমুক্ত বাংলাদেশ চাই’ শীর্ষক এই আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
কবি, রম্যলেখক ও বক্তৃতা প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের পরিচালক শাহজাহান আবদালীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি’র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এ্যাডভোকেট রফিক শিকদার।প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট কবি ও গবেষক অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ জমির হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ্যাডভোকেট রফিক শিকদার বলেন, “মাদকের মরণনেশায় আজ এদেশের যুবসমাজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। তরুণ প্রজন্ম একটি জাতির প্রাণশক্তি, আর সেই শক্তিকেই তিলে তিলে শেষ করে দিচ্ছে মাদক। দেশের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে হলে বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশ থেকে মাদককে চিরতরে নির্মূল করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নেই।”
সভাপতির বক্তব্যে কবি শাহজাহান আবদালী বলেন, “চলতি বছরের জাতীয় নির্বাচনে প্রতিটি নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীরা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন যে—তারা মাদক, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত সমাজ গড়বেন। এখন সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের সময় এসেছে। বিশেষ করে মাদক নির্মূলে পুলিশ ও প্রশাসনকে আরও কঠোরভাবে কাজে লাগাতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যদি আন্তরিকভাবে সচেষ্ট হয়, তবে আগামী ছয় মাসের মধ্যেই এদেশ থেকে মাদক নির্মূল করা সম্ভব।”
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মো.আলাউদ্দিন,রোকেয়া আহসান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের সাবেক অধ্যাপক সালাম খান,বিশিষ্ট কবি ও কথাসাহিত্যিক সমীর আহমেদ,কবি ও গীতিকার মিয়া আসলাম প্রধান।
তাছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হাজী আব্দুস সোবহান (সিআইপি), সমাজসেবক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, এডভোকেট আবু ছাইদ,বিশিষ্ট সমাজকর্মী বাবু অজয় সাহা, মোহাম্মদ আতিকুর রহমান, এবং মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।শিল্প ও শিক্ষা খাতের প্রতিনিধি শাহীন খান (অলিম্পিক গ্রুপ), কবির হোসেন শিকদার, ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ আবু জাফর, শিক্ষক ওয়ালী উল্লাহ এবং নারী উদ্যোক্তা সাহিদা আক্তার।
বক্তারা বলেন, মাদকমুক্ত সমাজ গঠন কেবল সরকারের একার পক্ষে সম্ভব নয়; এজন্য অভিভাবক, শিক্ষক ও সমাজের সচেতন নাগরিকদের সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে। সভা শেষে মাদকবিরোধী শপথ গ্রহণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।



















