কুড়িগ্রামে সরকারি হিসাবে সারের কোনো ঘাটতি না থাকলেও মাঠপর্যায়ে প্রয়োজনের সময় সার না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন কৃষকরা। তাদের দাবি, বরাদ্দ ও উত্তোলনের হিসাব ঠিক থাকলেও সরবরাহ ও বিতরণ ব্যবস্থার অনিয়মের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
কৃষকদের অভিযোগ, কোথাও প্রয়োজনের তুলনায় কম সার পাওয়া যাচ্ছে, আবার কোথাও দিনের পর দিন ঘুরেও সার মিলছে না। তাদের মতে, শুধু বরাদ্দ ও উত্তোলনের হিসাব যথেষ্ট নয়; বরাদ্দের সার শেষ পর্যন্ত প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। এ জন্য ডিলারদের গুদাম ও বিক্রয়কেন্দ্রে নিয়মিত তদারকি, মজুত যাচাই এবং নির্ধারিত মূল্যে সার বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানান তারা।
কৃষক আনোয়ার হোসেন বলেন, ডিলার পর্যায়ে কঠোর নজরদারির অভাবে অনেক সময় প্রকৃত কৃষকেরা চাহিদামতো সার পান না। কৃষক সেকেন্দার আলীর ভাষ্য, কাগজে-কলমে সার থাকলেই হবে না, প্রয়োজনের সময় তা কৃষকের হাতে পৌঁছাতে হবে। তাদের মতে, বরাদ্দ, উত্তোলন ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা গেলে চলমান সংকট দ্রুত দূর হবে।
তবে ডিলারদের বক্তব্য ভিন্ন। তাদের দাবি, চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। রাজারহাট উপজেলার বিসিআইসি ডিলার মেসার্স সুরমা ট্রেডার্সের ম্যানেজার সাগর কুমার জানান, নীতিমালার পরিবর্তনের কারণে এখন কৃষকেরা সরাসরি ডিলারের কাছ থেকে সার কিনছেন। তার দাবি, সারের কোনো সংকট নেই।
কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত আগস্ট মাসে রাজারহাট উপজেলায় ইউরিয়া ৬০০ মেট্রিক টন, টিএসপি ৭০ মেট্রিক টন, ডিএপি ৩০৭ মেট্রিক টন এবং এমওপি ১৯৫ মেট্রিক টন সার বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং সবই উত্তোলন সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি সেপ্টেম্বর মাসের ইউরিয়া ও নন-ইউরিয়া সারের বরাদ্দও পাওয়া গেছে এবং উত্তোলন শুরু হয়েছে। সরকারি হিসাবে জেলায় সারের ঘাটতি না থাকার কথা হলেও কৃষকদের অভিযোগ, বাস্তবে প্রয়োজনের সময় সার মিলছে না।
কৃষকদের আশঙ্কা, সময়মতো সার না পেলে বোরোসহ বিভিন্ন ফসলের উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যাবে। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তুষার কান্তি রায় বলেন, “চাহিদার বিপরীতে রাজারহাটে পর্যাপ্ত সার রয়েছে। সারের কোনো সংকট নেই। এরপরও কৃষকেরা কেন সার পাচ্ছেন না, আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি।”



















