পিন্টু দাসের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলা দায়েরের পর তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তবে তার স্ত্রী ও দুই ছেলের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না থাকায় তাদের পরিবারের জিম্মায় হস্তান্তর করেছে পুলিশ।
পিন্টু দাসের (৪৫) বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেলেও তার পরিবারের অন্য সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ মেলেনি। এ কারণে উদ্ধার হওয়া তার স্ত্রী রিমি এবং দুই ছেলে প্রিয়ম ও রুপমকে পিন্টুর পিতার জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিষয়টি নিশ্চিত করেন চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
তিনি জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পিন্টু দাস স্বীকার করেছেন যে বিভিন্ন পাওনাদারের কাছে তার প্রায় ২৫ লাখ টাকা দেনা রয়েছে। প্রতারণার অভিযোগের তদন্তের পাশাপাশি তার বিরুদ্ধে অন্য কোনো অভিযোগ আছে কি না, তাও খতিয়ে দেখেছে পুলিশ। তদন্তে পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ না পাওয়ায় তাদের পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জিজ্ঞাসাবাদে সাম্প্রদায়িক নাশকতা বা বড় ধরনের কোনো অপরাধের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
পুলিশ জানায়, গ্রাহকদের টাকা ও স্বর্ণ আত্মসাতের অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর একজনের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে পিন্টু দাসকে প্রতারণার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে সোপর্দ করা হয়। মামলার বাদী চাঁদপুর সদর উপজেলার রঘুনাথপুর এলাকার মো. মনসুর খানের ছেলে মো. রাসেল খান। চাঁদপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফয়েজ আহমেদ জানান, শনিবার সকালে প্রতারণা ও বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে।
মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আর্থিক প্রয়োজন মেটাতে বাদীসহ আরও পাঁচ-ছয়জন বিভিন্ন সময়ে পিন্টু দাসের দোকানে স্বর্ণের চেইন, কানের দুল, লকেটসহ বিভিন্ন অলংকার বন্ধক রেখে নগদ ঋণ নিয়েছিলেন। পরে ঋণের অর্থ পরিশোধ করেও তারা বন্ধকি স্বর্ণালংকার ফেরত পাননি। অভিযোগে বলা হয়, পিন্টু দাস টালবাহানা করতে থাকেন এবং বর্তমানে বাদীর প্রায় ৮ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার তার কাছে রয়েছে।
শনিবার দুপুরে পিন্টু দাসকে চাঁদপুর আদালতে হাজির করা হলে আদালত তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
উল্লেখ্য, গত ২০ আগস্ট থেকে পিন্টু দাস স্ত্রী ও দুই সন্তানসহ আত্মগোপনে ছিলেন। তার দোকান ও বাসা তালাবদ্ধ থাকায় বিষয়টি নিয়ে চাঁদপুরে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা এবং মালামাল বহনকারী ট্রাকচালকের তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রামের পটিয়া এলাকায় তাদের অবস্থান শনাক্ত করে চাঁদপুর সদর মডেল থানা পুলিশ। শুক্রবার ভোরে অভিযান চালিয়ে পিন্টু দাস ও তার পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করা হয়।


















