দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পর কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। স্থানীয় সময় শুক্রবার রাতে এ সিদ্ধান্তের ঘোষণা দেওয়া হয় এবং শনিবার প্রথম প্রহর থেকে তা কার্যকর হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি জেমিসন গ্রিয়ার সাংবাদিকদের জানান, গত সপ্তাহের শুরুতে যেসব শর্তে কানাডা সম্মত হয়েছিল, শুক্রবার রাতে সেসব শর্তে চুক্তি চূড়ান্ত করতে অটোয়া অস্বীকৃতি জানায়। এর পরই কানাডার নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ ‘ট্রাম্প ট্যারিফ’ আরোপ করা হয়।
এ সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শেষ মুহূর্তে প্রস্তাবিত শর্তে পরিবর্তন এনে অন্যায্য ও অর্থনৈতিকভাবে অযৌক্তিক আচরণ করেছে। তিনি জানান, এর জবাবে কানাডাও অবিলম্বে ‘ডলার ফর ডলার’ ভিত্তিতে সমপরিমাণ পাল্টা শুল্ক আরোপ করবে।
জুলাইয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন উচ্চ শুল্ক কার্যকরের আগে সমঝোতায় পৌঁছাতে দুই দেশ আলোচনা চালিয়ে আসছিল। সে সময় ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছিলেন, ৩০ দিনের মধ্যে চুক্তি না হলে কানাডার কিছু পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আলোচনায় কানাডায় তৈরি যানবাহনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ২৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং কানাডার ইস্পাত ও অ্যালুমিনিয়ামের ওপর শুল্ক অর্ধেকে কমিয়ে ২৫ শতাংশ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত এ বিষয়ে সমঝোতা হয়নি।
বর্তমানে কানাডার মোট রপ্তানির প্রায় ৭০ শতাংশই যুক্তরাষ্ট্রে যায়। ফলে ওয়াশিংটনের এ শাস্তিমূলক বাণিজ্যিক পদক্ষেপ কানাডার অর্থনীতির জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে ১৯ আগস্ট প্রকাশিত এক জরিপে দেখা যায়, ৫৬ শতাংশ কানাডীয় যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার পক্ষে এবং তারা আর কোনো ধরনের ছাড় দিতে রাজি নন।



















