সরকার আসে, সরকার যায়—কিন্তু বাংলাদেশের ক্রিকেট এখনও রাজনীতির দুষ্টচক্রে আটকে রয়েছে। গতকাল জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের নির্বাচিত পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে ১১ সদস্যের অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। কমিটির প্রধান হয়েছেন জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল, যিনি ৬ অক্টোবরের নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েও পরে ‘অনিয়মের’ অভিযোগে সরে দাঁড়িয়েছিলেন।
অ্যাডহক কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন বিএনপির সংসদ সদস্য ববি হাজ্জাজের স্ত্রী আইনজীবী রাশনা ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের ছেলে মির্জা ইয়াসির আব্বাস, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ছেলে সাঈদ ইব্রাহিম আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদের ছেলে ইসরাফিল খসরু এবং জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক ও সাবেক প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন। এছাড়া কমিটিতে আছেন সাবেক ক্রিকেটার ও ধারাভাষ্যকার আতহার আলী খান, এবং পূর্ববর্তী বিসিবি পরিচালকদের তানজিল চৌধুরী, সালমান ইস্পাহানি, রফিকুল ইসলাম ও ফাহিম সিনহা।
তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উল্লেখিত হয় যে ২০১৮ সালের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অনিয়ম হয়েছে। সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া হস্তক্ষেপ করেছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে। তাতেই এনএসসি তাদের অধীনে বিসিবির বোর্ড ভেঙে দিয়েছে। এনএসসির পরিচালক (ক্রীড়া) আমিনুল এহসান জানিয়েছেন, তিন ক্যাটাগরির নির্বাচনে অনিয়ম ধরা পড়েছে এবং সেই ভিত্তিতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
তবে আইসিসি এবং এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিল (এসিসি) সরকারি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে। ২০০১ সালে বিএনপি সরকারের সময় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনকে ফিফা নিষিদ্ধ করেছিল একই কারণে। এনএসসি আশাবাদী, ক্রিকেটে এবারের ঘটনায় আইসিসি কোন ব্যবস্থা নেবে না। তারা আইসিসি ও এসিসিতে নতুন অ্যাডহক কমিটির তথ্য পাঠিয়েছে।
অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল বিসিবি কার্যালয়ে গিয়ে সভাপতির চেয়ারে বসেছেন। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপচারিতায় তিনি বলেছেন, দেশের ক্রিকেটের সুনাম ফিরিয়ে আনা হবে তাদের প্রথম কাজ। তামিম জানিয়েছেন, আগামী নির্বাচনে অ্যাডহক কমিটির সদস্যরা চাইলে অংশ নিতে পারবেন।
বিরোধী মতের কেন্দ্রবিন্দুতে আছেন সাবেক সভাপতি আমিনুল ইসলাম। তিনি দাবি করেছেন, তিনিই এখনও বিসিবির একমাত্র বৈধ সভাপতি। তিনি এনএসসির তদন্ত প্রতিবেদনকে ‘তথাকথিত’ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রতিহিংসা বলে অভিহিত করেছেন। তিনি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের কাছে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানিয়েছেন এবং আইনি পথে বোর্ডের বৈধতা নিশ্চিত করার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এ পরিস্থিতি স্পষ্ট করে দিয়েছে—বাংলাদেশের ক্রিকেট এখনো মাঠের খেলাকে ছাড়িয়ে রাজনীতি ও ক্ষমতার লড়াইয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে। ক্রিকেটার ও খেলাপ্রেমীদের জন্য খেলাটি প্রাধান্য পাবে কি না, তা ভবিষ্যতের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।



















