শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৬:০৭ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনামঃ
চিলায় ধানের শীষের পথসভা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত শ্রীবরদীতে সুজনের উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ ও নবগঠিত কমিটির পরিচিতি সভা অনুষ্ঠিত বিদ্যার দেবী সরস্বতী পূজা আগামীকাল ভোটারদের যাতায়াত ও আইনশৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে ১১ ফেব্রুয়ারি সরকারি ছুটি অনুমোদন মোংলায় দুর্যোগ প্রস্তুতি পরিকল্পনা প্রণয়নে ‘ফিশনেট’ প্রকল্পের যাচাইকরণ সভা অনুষ্ঠিত বকেয়া বেতনের দাবিতে শ্রীপুরে সড়ক অবরোধ, শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ বিএনপি’র দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় তিন বিএনপি নেতাকে বহিষ্কার। মহাদেবপুরে শাকসু নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ছাত্রশিবিরের বিক্ষোভ মিছিল আজ থেকে ৪১৯ উপজেলায় ভর্তুকি মূল্যে চাল বিক্রি শুরু হচ্ছে কুবির শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত হলের নতুন প্রভোস্ট ড. জনি আলম অধ্যাদেশ জারি : তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ নিষিদ্ধ, লঙ্ঘনে ১০ লাখ টাকা জরিমানা ঠাকুরগাঁওয়ে জামায়াতের আমিরের আগমন উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলন ঠাকুরগাঁওয়ের ৩টি আসনে ২০ প্রার্থীর প্রতীক বরাদ্দ নওগাঁয় নির্বাচন ও গণভোট ঘিরে নিরাপত্তা জোরদার, জেলাজুড়ে পুলিশের বিশেষ চেকপোস্ট কুড়িগ্রামের ৪টি সংসদীয় আসনে প্রতীক বরাদ্দ সম্পন্ন গাজীপুরে মাদক বিরোধী বিশেষ অভিযানে ১১৮ কেজি গাঁজাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেফতার তারেক রহমান আগমন উপলক্ষে চৌদ্দগ্রামে প্রস্তুতি সভা ও আনন্দ মিছিল আগামীর বাংলাদেশ সব শ্রেণীর মানুষের অধিকার রক্ষার বাংলাদেশ : ডা. তাহের দেড়যুগের দখলমুক্তি, গরুর হাট উচ্ছেদে ফিরল শিক্ষার স্বস্তি জয়পুরহাটে বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে শোকসভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত

কুয়েটে আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির, বেতন-বোনাস ছাড়াই ঈদ কাটাতে যাচ্ছেন হাজারো শিক্ষক-কর্মচারীরা

কুয়েট প্রতিনিধিঃ
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) প্রশাসনিক ও আর্থিক অচলাবস্থা চরমে পৌঁছেছে। প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল প্রকার আর্থিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম। এমন অবস্থায় আসন্ন ঈদুল আযহার ঠিক এক সপ্তাহ আগে বেতন ও উৎসব ভাতা না পেয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কুয়েটের প্রায় ১,১০০ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী।
গত ২২ মে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলী কুয়েট শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের মুখে পড়ে দায়িত্ব ছেড়ে দিলে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত ‘অভিভাবকহীন’ হয়ে পড়ে। প্রশাসনিক নিয়ম অনুযায়ী, উপাচার্য ছাড়া কোনো আর্থিক বিল অনুমোদন করা সম্ভব নয়। ফলে শিক্ষক-কর্মচারীদের মে মাসের বেতন ও ঈদের বোনাস এখনও অনিশ্চিত হয়ে আছে।
এ অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রকৌশলী আনিছুর রহমান ভূঁইয়া গত ২৯ মে চ্যান্সেলর ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর একটি আবেদনপত্র পাঠিয়েছেন। চিঠিতে বলা হয়, উপাচার্য পদ শূন্য থাকায় সকল আর্থিক কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। অতএব, জরুরি ভিত্তিতে বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করে অন্ততপক্ষে বেতন ও উৎসব ভাতা পরিশোধের অনুমোদন প্রদানের জন্য প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রদান করা হোক।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগ, তারা একদিকে বেতন পাচ্ছেন না, অন্যদিকে প্রশাসনিক কার্যক্রমও স্থবির হয়ে পড়েছে। রোববার (১ জুন) দুপুরে ‘দুর্বার বাংলা’ চত্বরে মানববন্ধনে অংশ নিয়ে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
একজন কর্মকর্তা বলেন, “শুধু আমাদের পরিবার নয়, আমাদের সঙ্গে জড়িত হাজারো মানুষ এই সংকটে পড়েছেন। ঈদের সময় হাতে টাকা না থাকলে পরিবারের মুখে হাসি ফোটানো অসম্ভব।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার আনিছুর রহমান ভূঁইয়া গণমাধ্যমকে জানান, “উপাচার্য ছাড়া কোনো বিল অনুমোদন সম্ভব নয়, তাই আমরা শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছি। এখন মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসার অপেক্ষায় আছি।”
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (বিশ্ববিদ্যালয়) নুরুন আখতার বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয় যদি আমাদের কাছে সহযোগিতা চায়, আমরা অবশ্যই সমাধানের চেষ্টা করব।”
অচলাবস্থার কারণে শুধু শিক্ষক-কর্মচারীরাই নয়, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থীরাও। ঈদুল ফিতরের আগে থেকে শুরু হওয়া ছুটি, চলমান আন্দোলন ও একের পর এক প্রশাসনিক সংকটে কুয়েটে গত ১০৪ দিন ধরে বন্ধ রয়েছে নিয়মিত ক্লাস ও পরীক্ষা।
গতকাল (৩ জুন) থেকে শুরু হওয়া ঈদুল আযহার ছুটিতে ক্যাম্পাস আবারও বন্ধ হয়েছে। শিক্ষাবর্ষ কার্যত ভেস্তে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন অনেকে।
উল্লেখ্য, গত ১৮ ফেব্রুয়ারি কুয়েটে ছাত্রদল,যুবদল ও স্থানীয় সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা উপাচার্যসহ শীর্ষ প্রশাসনের পদত্যাগ দাবি করেন। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৪ এপ্রিল শিক্ষা মন্ত্রণালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মাছুদ ও উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অব্যাহতি দেয়।
১ মে চুয়েটের অধ্যাপক ড. মো. হযরত আলীকে অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হলেও তিনি ১৯ মে ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন এবং শিক্ষক সমিতির আন্দোলনের মুখে পড়ে ২২ মে পদত্যাগ করেন।
বর্তমানে কুয়েট কার্যত ‘অভিভাবকশূন্য’ অবস্থায় রয়েছে। সুষ্ঠু প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনের আগ পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও আর্থিক লেনদেন কবে স্বাভাবিক হবে—তা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করুন

2025 © জনপদ সংবাদ কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

প্রয়োজনে যোগাযোগঃ ০১৭১২-০৬৮৯৫৩