রাজধানীর ফার্মগেটে তেজগাঁও কলেজ জামে মসজিদে গোপন বৈঠক ও জঙ্গি কার্যক্রমের সন্দেহে গ্রেপ্তার ১২ জনকে তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার অনুমতি দিয়েছেন আদালত। শনিবার শুনানি শেষে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমান এ আদেশ দেন।
আদালত সূত্র জানায়, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিটিটিসির পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. আখতার মোর্শেদ প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুল হক দিদার আদালতে বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি ও জিহাদের জন্য লোক সংগ্রহের পরিকল্পনা করছিলেন। তাদের সঙ্গে আর কারা জড়িত এবং ঘটনার পেছনের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে তথ্য জানতে রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদ প্রয়োজন। তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মাসদ-উর রহমান রিমান্ডের বিরোধিতা করে জামিনের আবেদন করেন।
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সিটিটিসি জানতে পারে যে, কয়েকজন যুবক দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা বিনষ্ট, উগ্রবাদ ছড়িয়ে দেওয়া এবং বড় ধরনের সহিংসতার উদ্দেশ্যে তেজগাঁওয়ের কোকাকোলা মোড় এলাকায় সমবেত হয়েছেন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর তেজগাঁও ও শেরেবাংলা নগর থানা পুলিশের সহযোগিতায় অভিযান চালিয়ে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা ‘মিটআপ’ নামে একটি গোপন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের সদস্য। ওই প্ল্যাটফর্মে তারা উগ্রবাদসংক্রান্ত যোগাযোগ ও মতবিনিময় করতেন। তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, সিমকার্ড, ডিজিটাল আলামত এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে পরিকল্পনাকারী, সহযোগী ও অর্থের উৎস শনাক্ত করতে রিমান্ড প্রয়োজন বলে তদন্ত কর্মকর্তা আবেদনে উল্লেখ করেন।
সিটিটিসি আরও জানিয়েছে, গ্রেপ্তার শিহাব উদ্দিনের বিরুদ্ধে নরসিংদীর পলাশ থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এছাড়া মারজুক আহমেদের বিরুদ্ধে তেজগাঁও থানায় দ্রুত বিচার আইনের একটি মামলাও বিচারাধীন।



















